বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এবং রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অনেক আগেই বিদায় করা উচিত ছিল। বৃহস্পতিবার রংপুরের বদরগঞ্জে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, তাকে প্রেসিডেন্ট পদে রাখা বিএনপির জন্য একটি বড় ভুল এবং এই ভুলের মাশুল তাদের পদে পদে দিতে হবে।
এটিএম আজহারুল ইসলাম রাষ্ট্রপতিকে ‘খুনি হাসিনার দোসর’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তিনি সরাসরি জুলাই আন্দোলনের বিরোধী। তাই তাকে দ্রুত অপসারণ করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এখন জরুরি। সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে জনগণের প্রত্যাশা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সেই পদ জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জুলাই গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করতে পারে না। জনগণের রায় উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে তার রাজনৈতিক পরিণতি সরকারকেই বহন করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জাতীয় সংসদের ভেতরে সাংবিধানিকভাবে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতকে উপেক্ষা করা গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ নয়। অতীতে জনগণের মতামত অগ্রাহ্য করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা বাংলাদেশে বারবার রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। বর্তমান সরকারকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর মানুষ স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তি পেলেও বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। তার অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার যে ধরনের রাজনৈতিক আচরণ ও বিরোধী মত দমনের সংস্কৃতি অনুসরণ করত, বিএনপিও ধীরে ধীরে সেই একই পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার যদি অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি করে, তবে জনগণ তার জবাব দেবে।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। বর্তমানে দেশের মানুষ অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতির সংকটে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ সংঘাত নয়, একটি জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

















