ময়মনসিংহ শহরে বর্তমানে যাত্রীর তুলনায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা অনেক বেশি। সড়ক ও অলিগলিতে এসব অটোরিকশার দৌরাত্ম্য এখন জনমনে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের তথ্যমতে, নগরীতে ৫ হাজার ৪০০ চিকন চাকার রিকশা, ৫ হাজার ৫৭১টি মোটা চাকার মিশুক এবং ৫ হাজার ৯৬৮টি লম্বা অটোরিকশা চলাচল করছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, শহরে অনুমোদনহীন অটোরিকশার সংখ্যা এর প্রায় চারগুণ। এছাড়া জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় ৪৫ হাজার অটোরিকশা চলাচল করছে।
যানজট কমাতে সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন সময় রং বিভাজন ও এলাকা নির্ধারণ করে দিলেও মালিক ও চালকরা তা মানছেন না। অটোরিকশাগুলো হর্নের পরিবর্তে ১০ টাকার খেলনার বাঁশি ব্যবহার করছে, যা বিশৃঙ্খলা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, চালকরা অতিরিক্ত ভাড়ার আশায় গাদাগাদি করে যাত্রী বহন করছেন এবং প্রতিবাদ করলে খারাপ আচরণ করছেন। অনেক সময় মাঝপথে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।
শহরে অটোরিকশা এখন অপরাধের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। গত ১০ জুলাই আকুয়া ফিরোজ লাইব্রেরি এলাকায় যাত্রীবেশে থাকা ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এক যুবকের মোবাইল ও টাকা কেড়ে নেয়। এছাড়া চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। বিশেষ করে অফিস সময়ের পর চালকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন, কারণ তখন প্রশাসনের তদারকি থাকে না। অদক্ষ চালক ও শিশুদের হাতে অটোরিকশা তুলে দেওয়ার ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। গত ২১ জুলাই শম্ভুগঞ্জ এলাকায় অটোরিকশা দুর্ঘটনায় তিন যাত্রী প্রাণ হারান।
যাত্রীরা জানান, ১০ টাকার ভাড়া অকারণে ৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেনের মতে, প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন সব জেনেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছে প্রশাসন অনেকটাই অসহায়।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন জানান, যানজট নিয়ন্ত্রণে অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মালিক ও চালকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুতই নগরবাসী এর সুফল পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

















