ভারতে বিজেপির টানা তিন মেয়াদের শাসনামলে এই প্রথম কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। দেশটিতে চলমান বিক্ষোভের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মাত্র এক দিন পরেই পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই টাস্কফোর্সটি ২০ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হবে এবং এটি ২৬ জুলাই ২০২৬ (2026-07-26/0) তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।
নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক জীবন ও উত্থান বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে। ২০১৪ সালের মে মাসে ভারতের ১৬তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এর আগে ২০০১ সাল থেকে টানা চারবার গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন গুজরাটকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য তিনি প্রশংসিত হলেও, ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার ঘটনায় চরমভাবে নিন্দিত হন। ওই দাঙ্গায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল, যার অধিকাংশই ছিল মুসলিম। যদিও মোদি বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। দাঙ্গার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল, কিন্তু এক দশক পর তিনি মূল ধারার রাজনীতিতে পুনরায় শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে আসেন।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রশিক্ষিত প্রচারক হিসেবে কাজ করা মোদি তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও সুবক্তা হিসেবে দলে পরিচিতি পান। ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গুজরাটের মেহসানা জেলার ভাদনগর রেল স্টেশনে জন্ম নেওয়া মোদি দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন। শৈশবে বাবার চায়ের দোকানে কাজ করার পাশাপাশি পড়াশোনা ও বিতর্কেও তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে গুজরাট ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত আরএসএস-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ১৯৮০ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ২৮ বছর বয়সে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান এবং ৭২ বছর বয়সেও তিনি সমান সক্রিয়। এছাড়া ২ মে তিনি এই সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বচ্ছ ভারত গঠন এবং পররাষ্ট্রনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক মজবুত করতে তাঁর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৭ বছর বয়সে যশোদাবেনকে বিয়ে করলেও, তাঁদের দাম্পত্য জীবন খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের বিয়ের কথা স্বীকার করেন। গুজরাট দাঙ্গা থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত নানা বিতর্কের মধ্যেও মোদির রাজনৈতিক উত্থান ও ক্ষমতা ধরে রাখা ভারতীয় রাজনীতিতে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

















