দেশের অন্যতম শীর্ষ আম উৎপাদনকারী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার নতুন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বিদেশি জাতের আম ‘রেড আইভরি’। শিবগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের একটি বাগানে উৎপাদিত এই আকর্ষণীয় ও বড় আকারের আম দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শিক্ষার্থী, স্থানীয় কৃষক এবং ফলপ্রেমীরা। বাগানটির উদ্যোক্তা স্থানীয় কৃষক কবির আলী প্রায় দুই বছর আগে দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে দুই বিঘা জমিতে ৩৪০টি চারা রোপণ করে বাগানটি গড়ে তোলেন। গত বছর প্রথমবারের মতো ফলন আসায় তিনি প্রায় পাঁচ মণ আম উৎপাদন করেছিলেন, যা প্রতি মণ ৫ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
এ বছর বাগানটির প্রতিটি গাছেই প্রচুর ফল ধরেছে এবং টকটকে লাল রঙে পুরো বাগান ছেয়ে গেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এসব আম বাজারে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। ভালো বাজারদর পেলে বিনিয়োগের অর্থ তুলে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন কবির আলী। তিনি জানান, গত বছর ফলন কম হলেও ভালো দাম পেয়েছিলেন, এবার গাছগুলো ফলে ভরে ওঠায় তিনি আরও বেশি আশাবাদী। স্থানীয় কলেজছাত্র সানাউল্লাহ বাগানটি দেখতে এসে জানান, আগে শুধু ইউটিউবে দেখা এই আম এখন নিজের এলাকায় সরাসরি দেখতে ও খেতে পারছেন, যা বেশ আনন্দের।
বাগানটি পরিদর্শন করে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন শিবগঞ্জের লাফট্টা এলাকার আমচাষি আতাউর রহমান। তিনি বলেন, প্রতিটি আমের ওজন ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজিরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী বছর তিনিও এই জাতের আম চাষে আগ্রহী। বাগানটির পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রহমান জানান, গত বছর বাজারে আনার অল্প সময়ের মধ্যেই সব আম বিক্রি হয়ে গিয়েছিল এবং ক্রেতাদের মধ্যে বেশ চাহিদা ছিল। এবার ফলন বেশি হওয়ায় তারা সফল মৌসুমের প্রত্যাশা করছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম জানান, জেলায় তিন শতাধিক জাতের আম রয়েছে এবং বিদেশি জাতের আম চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। যারা নতুন জাত চাষ করতে আগ্রহী, তাদের কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রেড আইভরি নাবি মৌসুমের জাত হওয়ায় আমের ভরা মৌসুম শেষ হওয়ার পর এটি বাজারে আনার সুযোগ থাকে। সে সময় বাজারে আমের সরবরাহ কম থাকায় ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর বিপণন নিশ্চিত করা গেলে রেড আইভরি দেশের আমের বাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে এবং আমের মৌসুম দীর্ঘায়িত করতে সহায়তা করবে।
আতিকুল ইসলাম বলেন, জেলায় ৩০০-এর বেশি জাতের আম রয়েছে।

















