আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার উদ্বেগের কারণে ইরানে সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠক ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনার সময় অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরসহ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করেছিলেন যে, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো সম্ভব হলেও এতে সেন্ট্রাল কমান্ডের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে জেনারেল কেইনের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার জেরে গত দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর রোববার পর্যন্ত নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে উভয় পক্ষই কূটনৈতিক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বৈঠক সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং শরণার্থী সংকট আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক স্টিভেন চেং জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তবে তার জবাব দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের সব ধরনের বিকল্প খোলা রয়েছে।

















