দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ‘ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্র’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ভুলবশত একটি কক্ষে থাকা কিছু পরীক্ষার্থীর হাতে ‘ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা দ্বিতীয় পত্রের’ প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টায় এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলে সেতাবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ৩০১ নম্বর কক্ষে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের কিছু পরীক্ষার্থীর হাতে ভুল করে ‘ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা দ্বিতীয় পত্রের’ ৪ নম্বর সেটের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জানান। পরে দ্রুত প্রশ্নপত্রগুলো তাদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হয়।
সেতাবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের হল সুপার আবুল কাশেম জানান, প্রশ্নপত্রের খামের ওপর ‘ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্র’ লেখা থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সেটি খুলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেন। প্রশ্নপত্র দেওয়ার পরপরই পরীক্ষার্থীরা সেটি দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন বলে বুঝতে পারেন। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নপত্রগুলো ফেরত নেওয়া হয়।
বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ হোসেন বলেন, নির্ধারিত দিনে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্রের পরীক্ষা থাকলেও ভুলবশত একটি কক্ষে থাকা কিছু পরীক্ষার্থীর হাতে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি পরীক্ষার্থীরা জানানোর পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্নপত্রগুলো ফেরত নেওয়া হয়। পরে পাশের কেন্দ্র থেকে প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র এনে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে সময় নষ্ট হওয়ায় ওই পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, ঘটনার পর সেতাবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কুশল চন্দ্র রায়, হলসুপার আবুল কাশেম এবং ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ওয়াহিদা ফারজানাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন বলেন, নির্ধারিত দিনে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্রের পরীক্ষা থাকলেও ভুলবশত কেন্দ্রের একটি কক্ষে থাকা পরীক্ষার্থীর হাতে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নপত্রগুলো ফেরত নেওয়া হয়। পরে পাশের একটি কেন্দ্র থেকে প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র এনে পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। এতে কিছুটা সময় নষ্ট হওয়ায় তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসককেও ঘটনাটি অবহিত করা হয়েছে।

















