ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজিপি)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) থেকে তারা পুনরায় নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করবে।
এর আগে গত শনিবার (২৫ জুলাই) দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে সিজিপির তৃতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে নিট পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে সরকার সম্মত হয়েছিল। এছাড়া দেশজুড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত এফআইআর বা মামলা প্রত্যাহারেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানায় সংগঠনটি।
তবে সিজিপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ওই সমঝোতার কোনো প্রতিফলন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। তার অভিযোগ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি দিল্লিসহ অন্যান্য রাজ্যেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এছাড়া যারা আন্দোলনকারীদের লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছেন, এমন স্বেচ্ছাসেবকদের আটকের ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি জানান।
সরকারের মধ্যস্থতাকারী মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংকে উদ্দেশ্য করে আশুতোষ রাঙ্কা দাবি জানিয়েছেন যে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোর পুলিশ যেন আর নতুন কোনো মামলা না করে, তার নিশ্চয়তা চেয়েছেন তিনি।
সিজিপির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার যে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই নথিপত্র মঙ্গলবারের মধ্যেই তাদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনটি শুরুতে ব্যঙ্গাত্মকভাবে শুরু হয়েছিল এবং এর নামও নেওয়া হয়েছিল একটি কটূক্তি থেকে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৭ দিনের দীর্ঘ আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল সংগঠনটি, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আবারও কঠোর কর্মসূচির দিকে ঝুঁকছে।

















