দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকট নিরসনে আরো দশ থেকে পনেরো দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান টার্মিনালগুলো মেরামতের কাজ চলছে এবং আমদানিকৃত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশবাসীর যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘নেভিগেটিং গ্লোবাল শিফটস: ফস্টারিং এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালই বেসরকারি খাতের। গত মঙ্গলবার এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগার ফলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা বর্তমানে চলমান গ্যাস সংকটের মূল কারণ। মন্ত্রী আরো অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকার গ্যাস উৎপাদন না বাড়িয়ে জ্বালানি খাতকে আমদানিনির্ভর করে তুলেছে। গত ছয় মাসে প্রায় ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি করতে হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নিজ দপ্তরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি। বিপরীতে নিজস্ব উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে, ফলে প্রতিদিন ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি ঘাটতি থাকছে। এর মধ্যে মহেশখালীর টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দৈনিক ৪৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাসসহ বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির আওতাধীন গ্রাহকরা গ্যাসের স্বল্পচাপের সমস্যায় ভুগবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
টার্মিনাল মেরামতের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার এখন বেসরকারি খাতের এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধানের আশা করা হলেও, পরে ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও সমাধান না হওয়ায় আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হয়েছে। পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টস এয়ার ফ্রেইটের মাধ্যমে আনা হচ্ছে এবং দ্রুত কাস্টমস ছাড়পত্র দিয়ে তা মেরামতের কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সংকট নিরসনে বর্তমানে ১৭৫ জন প্রকৌশলী, ৯৫ জন কারিগরি বিশেষজ্ঞ, ১০০ জন লজিস্টিক সাপোর্ট কর্মী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

















