বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, ঢাকা ও নয়াদিল্লি পারস্পরিক স্বার্থ এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুনভাবে এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল, তাই কোনো সুনির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে সামগ্রিকভাবে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু অস্বস্তিকর বিষয় রয়েছে বলে উল্লেখ করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এসব বিষয় নিরসন হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বিষয়টি ভারতীয় হাইকমিশনার অবগত আছেন। আগামী দিনে সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে বলে তিনি জানান।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের আরও কিছু কর্মসূচি ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন থাকায় সব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া ফিলিপাইনের ম্যানিলায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তার বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উভয় পক্ষই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে কাজ করার আশা প্রকাশ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফরকে ‘অনুসন্ধানমূলক’ আখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে আসছেন এবং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করতে পারেন। ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ককে বহুমাত্রিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো চাপের মুখে নেই। এছাড়া চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততাকে ‘জিরো-সাম গেম’ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হওয়ার অর্থ অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া নয়।
অন্যদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বৈঠকটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সংস্কৃতি, সংগীত ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, ভারতীয় হাইকমিশনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও আলাদাভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা উভয়েই একমত যে, পারস্পরিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবং আমি যেমন সবসময় বলি, সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত।’
ভারতের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

















