মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আঁচ ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন বাজারে জ্বালানি তেলের মজুত কমে যাওয়ার তথ্য এই অস্থিরতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ বিশ্ববাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.১৫ ডলার বা ৩.৮ শতাংশ বেড়ে ৮৭.২৪ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২.৭৩ ডলার বা ৩.৪ শতাংশ বেড়ে ৮১.৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আইএনজির বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বাহিনীর ওপর সারপ্রাইজ অ্যাটাকের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ঘটনার পর থেকেই বাজারে নতুন করে দাম বাড়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা সংঘাত দ্রুত নিরসনের আশা ক্ষীণ করে দিয়েছে। সৌদি আরবের তেল প্রতিষ্ঠানে ড্রোন হামলার জবাবে আজ সকালে ইরাকে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথ হামলা চালায়। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনায় ওমানের প্রস্তাবিত যৌথ পরিচালনা পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হতো এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে।
ডিবিএস ব্যাংকের শক্তি গবেষণা বিভাগের প্রধান সুভ্রো সরকার জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতার কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আপাতত ৮০ থেকে ১০০ ডলারের ঘরেই ঘোরাফেরা করবে। এর পাশাপাশি আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩৩ লাখ ব্যারেল কমেছে, যা বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে।

















