ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসসহ অন্যান্য স্বাধীনতাকামী সংগঠন গাজা উপত্যকায় সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে নীতিগত সম্মতি প্রদান করেছে। হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। এই উদ্যোগকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি ‘যুগান্তকারী’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে নিরস্ত্রীকরণের একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। তবে আন্তর্জাতিক যাচাইকারী কোনো সংস্থার অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনে এই সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব। হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ জানান, আলোচনাটি অত্যন্ত জটিল ও কঠিন ছিল, তবে তারা একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পালন না করে, তবে হামাসও চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য থাকবে না। মূলত গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পুনর্গঠনের অগ্রগতির ওপরই এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া নির্ভর করছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, এটি গাজায় নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তার মতে, এই সরকার ‘বোর্ড অব পিস’-এর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে, যা গাজাকে আর সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেবে না এবং ইসরায়েলকে নিরাপত্তা প্রদান করবে। বোর্ড অব পিসের এক কর্মকর্তার তথ্যমতে, হামাস ও অন্যান্য গোষ্ঠী তাদের অস্ত্র প্রথমে পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ভারী অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে একটি জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করবে।
গত অক্টোবরে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিরই অংশ হিসেবে এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে। গাজায় চলমান এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে এবং পরবর্তীতে সেখানে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী ও নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
বর্তমানে হামাস নেতারা কায়রোতে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করছেন। মিসরের আল-কাহেরা নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে। তবে গাজাভিত্তিক আরেকটি গোষ্ঠী, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ, এই চুক্তির খবর অস্বীকার করে প্রচারিত নথির ভাষা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৬ জুলাই হামাস ঘোষণা দিয়েছিল যে, গত দুই দশক ধরে গাজা শাসনকারী তাদের প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্ত করা হয়েছে।

















