হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘস্থায়ীভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে, যেখানে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দর শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজ এবং অননুমোদিত পথে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে তারা হামলা চালিয়েছে। তেহরানের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তাদের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন দাবি করেছে, ইরানের যুদ্ধজাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই তারা এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন পথ ঘিরে সামরিক অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে।
বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। তাই এই নৌপথে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেল পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বাজারে দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বজায় রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সংঘাত অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হতে পারে। এর ফলে শুধু তেলের দামই নয়, পরিবহন ব্যয় ও বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির ওপরও নতুন করে চাপের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

















