বছরের শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে অংশ নিলেও, সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়াই করার কৌশল নিয়ে ভাবছে জামায়াতে ইসলামী। আগস্টের শেষ বা সেপ্টেম্বর নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে ইসি ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে। ১০ থেকে ১২ মাসে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা দিয়ে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য স্তরে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি ও স্থানীয় নেতৃত্ব যাচাইয়ের জন্য এই নির্বাচনকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে প্রায় সব রাজনৈতিক দল।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ২০ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে সমঝোতা করতেই কয়েক মাস সময় লেগেছিল। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে আসন সমঝোতা করা বাস্তবসম্মত নয়। অতীতেও কখনো জোটবদ্ধভাবে স্থানীয় নির্বাচন হয়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে যদি কোনো সমঝোতা হয়, তাতে দলের পক্ষ থেকে বাধা থাকবে না। তিনি জানান, জামায়াতকে বাদ দিয়ে অন্য দলগুলোর সমঝোতার কোনো আলোচনার বিষয়ে তার জানা নেই।
এদিকে জামায়াতের এই একক সিদ্ধান্তের বিপরীতে ১১-দলীয় ঐক্যের অন্য শরিকদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘ আলোচনার পর আসন সমঝোতা হলেও প্রত্যাশার তুলনায় কম আসন পাওয়া নিয়ে অসন্তোষ ছিল ১১–দলীয় ঐক্যভুক্ত কয়েকটি দলের। ১০টি আসনে সমঝোতা হলেও দলটির দাবি ছিল আরও বেশি। খেলাফত মজলিস জানিয়েছে, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হলে তারা বিকল্প হিসেবে হয় এককভাবে, না হয় জামায়াত ছাড়া অন্য কোনো জোটের সঙ্গে নির্বাচনের কথা ভাবছে। সর্বশেষ ২৫ জুলাই খেলাফত মজলিস সিদ্ধান্ত জানায়, তারা আর ১১–দলীয় ঐক্যের কোনো কর্মসূচিতে যাবে না। খেলাফত মজলিসের নেতারা বলছেন, তাঁরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী। যদিও সেই একই পদে জামায়াত ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রস্তুত করছে। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ২১ জুলাই জানিয়েছেন, আপাতত তারা এককভাবে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১১ দলের কেন্দ্রীয়ভাবে জোট হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে সমঝোতা হতে পারে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই দলগুলোর চূড়ান্ত নির্বাচনী কৌশল ও জোটের ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

















