গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া (মোড়ল মার্কেট) এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী রজব আলীর ছেলে মজিবর রহমান ও নাসির শাহ ওরফে সোহেল পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন এবং জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, মজিবর ও সোহেল দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ব্যক্তিকে মাদক ও চাঁদাবাজির মতো মামলায় জড়িয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য অপু প্রায় চার বছর আগে গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে পাঁচ গন্ডা জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে সোহেল পাশের জমিতে বাড়ি তৈরির সময় অপুর প্রায় এক শতাংশ জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অপুর স্বজন রাকিব জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য রাখা তিন ফুট জায়গা দখল করেই সোহেল ঘর তুলেছেন এবং এখন পুরো জমি দখলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। গত ১৪ জুলাইয়ের একটি ঘটনার জেরে দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় বর্তমানে অপু কারাগারে রয়েছেন। অপুর বড় ভাই টিপু সুলতান জানান, একাধিক গ্রাম্য সালিশে রায় তাদের পক্ষে এলেও প্রতিপক্ষ তা মানছে না।
অভিযুক্ত নাসির শাহ ওরফে সোহেল জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, গত ১৪ জুলাই পারিবারিক ঝামেলার সময় ধাক্কাধাক্কিতে তিনি আহত হন। তার শাশুড়ি সমলা জানান, অপুর জমির ওপর সোহেলের ঘরের কিছু অংশ রয়েছে। সোহেলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এবং তার কর্মস্থলের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, দুই বছর আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সোহেলের পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছিল। তবে দায়ের করা মামলার এজাহারে অপুর হামলায় পা ভাঙার যে দাবি করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। অভিযুক্ত মজিবর রহমান জানান, তার মেয়ের জামাতা জমি কিনে বাড়ি তৈরি করেছেন এবং অপুরা চাঁদা দাবি করছেন এমন কোনো প্রমাণ নেই।
গত ২৫ জুলাই আদালতের নির্দেশে শ্রীপুর থানায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩৮০, ৩০৭, ৩৮৫, ৩৫৪ ও ৫০৬(২) ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। স্থানীয় গ্রাম্য মাতবর হাসেম মোড়ল উভয় পক্ষের বাড়ি নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, আদালতের নির্দেশে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহবুব জানিয়েছেন, তদন্তে যা প্রমাণিত হবে সেই অনুযায়ী আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

















