গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ এবং সমাজের আয়না হিসেবে পরিচিত। এই আয়না যেমন কোনো কিছু আড়াল করে না, তেমনি একজন প্রকৃত সাংবাদিকও কোনো তথ্য বিকৃত না করে সত্য তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের সমাজের বিবেক উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, মিডিয়া যতদিন জাগ্রত থাকে, একটি সমাজও ততদিন জাগ্রত থাকে। বিবেকের মৃত্যু হলে সমাজেরও মৃত্যু ঘটে। শনিবার সিলেটের বন্দরবাজারস্থ কুদরত উল্লাহ মসজিদ কমপ্লেক্সে দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার ৩৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জালালাবাদ পরিবারের সদস্য হিসেবে পত্রিকাটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এই পত্রিকা কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র হবে না, বরং জনগণের মুখপাত্র হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জালালাবাদকে অবশ্যই নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে হবে। এই নীতিগত অবস্থান বজায় রাখতে গিয়ে যদি কোনো রাজনৈতিক দলের রোষানলে পড়তে হয় বা পত্রিকাটি বন্ধও হয়ে যায়, তবুও নীতির প্রশ্নে যেন কখনো আপস করা না হয়। তিনি আরও বলেন, সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে যদি কোনো সংবাদ আমার বা আমার দলের বিরুদ্ধেও যায়, তবুও জালালাবাদ যেন তা প্রকাশে পিছপা না হয়। নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরলেই মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
বর্তমান সমাজে আস্থার সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষ এখন একে অপরকে বিশ্বাস করতে চায় না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দৈনিক জালালাবাদ তার বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে। বক্তব্যের শেষে তিনি পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে দেশের গণমাধ্যমে সত্য ও ন্যায়ভিত্তিক সাংবাদিকতার ধারা শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, পত্রিকার সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা মুকতাবিস উন নূর, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং ফিলিপাইন ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপুসহ সিলেটের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ।

















