ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই পথ থেকে সরে এসে এখন বাঁকা পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে সিলেটে দৈনিক জালালাবাদ আয়োজিত এক সুধী সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ পরিবর্তনের যে রায় দিয়েছিল, সরকার তা উপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, আমরা সেই প্রত্যাশায় একটি গণভোট পেয়েছিলাম যা ছিল জাতিকে বদলানোর ভোট। তখন দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই গণভোটের পক্ষে কথা বলেছিল। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষমতা পাওয়ার পর তারা এখন মনে করছে যা ইচ্ছা তাই করা যাবে এবং গণভোটের আর প্রয়োজন নেই। কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা হলো, জনগণের রায়কে সম্মান না করলে তার পরিণতি শুভ হয় না।
জামায়াত আমীর আরও বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদী আমলের সব জঞ্জাল মুছে নতুন এক জাতির উত্থান ঘটুক। কিন্তু সরকার গঠনের গত ৪-৫ মাসে কিছুই বদলায়নি, বরং দুর্নীতি বেড়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি কেবল একটি দলের নন, পুরো দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাই দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে তাকে কার্যকর দায়িত্ব নিতে হবে। স্পিকারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে জাতির সামনে বড় সংকট তৈরি হতে পারে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আমরা সব কিছুকে ষড়যন্ত্র বলতে চাই না, আবার ষড়যন্ত্র নেই—এ কথাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর বিএনপিও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাই মজলুমের কষ্ট তারাই ভালো বোঝে। দেশ যেন আবার কোনো চোরাবালি বা অন্ধকার গলিতে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ, তাই কোনো তথ্য বিকৃত না করে সত্য তুলে ধরতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, দৈনিক জালালাবাদের সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্যরা।

















