কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) অবশেষে আংশিক চালু হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে এই টার্মিনালটি জাতীয় গ্রিডে সীমিত আকারে এলএনজি সরবরাহ শুরু করেছে। তবে টার্মিনালটি আংশিক সচল হলেও দেশের গ্যাস সংকট সহসা কাটছে না। আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় এলএনজি কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পট মার্কেট থেকে দ্রুত এলএনজি কেনার সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে, যার একটি এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি সামিট কোম্পানি পরিচালনা করে। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা দেশে তীব্র সংকটের সৃষ্টি করে।
সরকারি তথ্যমতে, এলএনজি কোম্পানি আরপিজিসিএল জুলাই মাসের ১০ থেকে ১৬ তারিখের জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করেছিল, কিন্তু আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। ১৫-১৬ আগস্টের জন্য বিটল এশিয়া নামের একটি কোম্পানি কার্গো সরবরাহে রাজি হলেও এর ব্যয় প্রায় ৯৪৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এছাড়া সৌদি কোম্পানি আরামকো ১২-১৩ আগস্ট এলএনজি সরবরাহে সম্মত হয়েছে, যার প্রতি ইউনিটের মূল্য ২১ ডলারের বেশি। এই প্রস্তাবটি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বর্তমানে এক্সিলারেট এনার্জির একটি বয়লার সচল হওয়ায় মজুত থাকা এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন করে গ্রিডে পাঠানো হচ্ছে। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের আরেকটি এলএনজিবাহী কার্গো বর্তমানে বাংলাদেশের জলসীমায় অবস্থান করছে। এটি টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত হলে শুক্রবার থেকে দৈনিক ২০ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, স্বাভাবিক সময়ে দেশে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, যার ১১০ কোটি ঘনফুট আসত এলএনজি থেকে। অগ্নিকাণ্ডের পর সরবরাহ কমে দৈনিক ২১৩ থেকে ২১৪ কোটি ঘনফুটে নেমে আসায় দেশের শিল্প উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

















