ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতার অংশীদারিত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনায় নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মরক্কোর রাবাতে অবস্থিত ফিফার আফ্রিকা কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে ফিফা তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। উয়েফাসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে এই বৈঠক ডাকা হয়। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা গত সপ্তাহান্তে ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারিয়েছে বলে জানায় এবং ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রস্তাবকে অস্বচ্ছ ও গোপন কক্ষের চুক্তি বলে আখ্যা দেয়।
বুধবারের এই জরুরি বৈঠকে ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রমসহ ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। যদিও এর আগে গ্রাফস্ট্রম পুরো পরিস্থিতিকে দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে বর্ণনা করেছিলেন, তবে বৈঠকের পর তিনি ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া ইনফান্তিনো ও গ্রাফস্ট্রম ফিফার সহ-সভাপতি, কাউন্সিল এবং ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়ে ভবিষ্যতে এমন ভুল না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বৈঠক শেষে তাদের দুজনকে রাবাতে উইমেন্স আফ্রিকা কাপ অব নেশনস-এর একটি ম্যাচ উপভোগ করতেও দেখা গেছে।
ইনফান্তিনোর পূর্বের প্রস্তাব অনুযায়ী, এফএফই-এর মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনায় সমর্থন দিলে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে ৪ কোটি ডলার দেয়ার কথা ছিল। ফিফা স্বীকার করেছে যে, এই প্রক্রিয়ায় কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে বাদ দেয়া ভুল ছিল এবং বিষয়টি ভিন্নভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল। গত ২৮ জুলাই দ্য টাইমস প্রথম এই পরিকল্পনার খবর প্রকাশ করার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এছাড়া দ্য টাইমস দাবি করেছিল যে, মরক্কোর সমর্থনের বিনিময়ে ইনফান্তিনো দেশটিকে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা ফিফা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইনফান্তিনোর এই নেতৃত্ব নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি এবং লুইস ফিগোর মতো ব্যক্তিরা কঠোর সমালোচনা করেছেন। লুইস ফিগো অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন। তবে এসব সমালোচনা সত্ত্বেও ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে চতুর্থ মেয়াদের জন্য পুনর্নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জিততে হলে তাকে ২১১ সদস্যের মধ্যে কমপক্ষে ১০৬ ভোট পেতে হবে। ফিফা জানিয়েছে, তারা সংস্থার সততা ও সুশাসন রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে এবং তাদের মতে, এই বৈঠকের ফলাফল ফিফার সুশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে। ওয়েলসসহ কয়েকটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন সমর্থন প্রত্যাহার করলেও, ফিফা জোর দিয়ে বলেছে যে তাদের কর্মকাণ্ড বিধিমালার অনুসরণ করেই করা হয়েছে।

















