জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ জ্বালানি খাতকে চিহ্নিত মাফিয়া ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণকে জিম্মি করার গভীর চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে।
বিবৃতিতে নেতারা অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ঋণ জালিয়াতি, ব্যাংক লুটপাট ও অর্থপাচারের দায়ে অভিযুক্ত একটি বিতর্কিত মাফিয়া গোষ্ঠীকে পেট্রোলিয়াম বাণিজ্যের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়ার তোড়জোড় চলছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে মাফিয়াদের হাতে তুলে দিয়ে দেশকে দেউলিয়া করেছিল, বর্তমান অপচেষ্টাও সেই একই অন্ধকার মডেলের পুনরাবৃত্তি। বিগত দিনে কুইক রেন্টাল ও দায়মুক্তি আইনের সুযোগ নিয়ে যেভাবে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করা হয়েছিল, এখন জ্বালানি খাতেও একই নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এনসিপি নেতারা আরও বলেন, মাত্র দুই দিনে তদন্ত কমিটি গঠন, বিপিসির চেয়ারম্যান অপসারণ এবং চার দিনে নীতিমালার খসড়া তৈরির নজিরবিহীন তাড়াহুড়ো প্রমাণ করে এটি কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি মাফিয়া ব্যবসায়ীদের তোষণের একটি নগ্ন চক্রান্ত। তারা দাবি করেন, বিপিসির নিজস্ব সক্ষমতা না বাড়িয়ে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত গোষ্ঠীর হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
এলপিজি খাতের মতো ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ ও দর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মাফিয়াদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার এই বন্দোবস্তকে আত্মঘাতী আখ্যা দিয়েছেন নেতারা। তারা অবিলম্বে এই প্রাইভেটাইজেশন নীতি বাতিল করে জ্বালানি খাতের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে, মাফিয়া তোষণের এই চক্রান্ত বন্ধ না হলে জনগণের অধিকার রক্ষায় রাজপথে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

















