জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ এবং ভিসা পলিসি ২০২৬-এর খসড়াসহ ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনে গুম রোধকল্পে একটি জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা (NPM) ইউনিট গঠনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি জাতিসংঘের ‘নির্যাতন বিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকল’ (OPCAT) অনুযায়ী কার্যকর হবে। এছাড়া, কমিশন গঠনে একজন চেয়ারপার্সন ও চারজন কমিশনার থাকবেন, যেখানে ন্যূনতম একজন নারী অন্তর্ভুক্তির বিধান রাখা হয়েছে। বাছাই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নাগরিক প্রতিনিধি এবং নৃ-গোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের কার্যপরিধি সুস্পষ্ট করা হয়েছে এবং অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা সহজ করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন ভুক্তভোগীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বা ক্ষতি রোধে কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদানের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।
ভিসা পলিসি ২০২৬-এর খসড়াও মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলা। ভিসা পলিসি ২০২৬-এ ৩৪টি ভিসা ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্বের ভিসা নীতিমালা, ২০০৬-এর ৩৩টি ক্যাটাগরির চেয়ে একটি বেশি। এই নতুন নীতিমালার ভিত্তিতে পূর্ববর্তী সকল ভিসা সংক্রান্ত সার্কুলার বাতিল করে একটি সমন্বিত ও আধুনিক ভিসা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হবে, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করবে।
এছাড়াও, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮ক ধারার সকল শর্ত পরিপালনপূর্বক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় উক্ত ধারা বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণীত হয়, যা মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। এই আইনটি মূলত তফসিলি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব বা অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ যেকোনো ঝুঁকির সময়োপযোগী সমাধান ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-কে আইনে রূপান্তরের অংশ ছিল।

















