বাংলাদেশ

১৯ বছরে সর্বনিম্ন এসএসসি পাসের হার, ৫ লাখের বেশি অকৃতকার্য

প্রতিবেদক
দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি এশিয়া কাপ হকিতে চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করলো বাংলাদেশ এশিয়া কাপ হকিতে চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করলো বাংলাদেশ চাকরির আশায় কম্বোডিয়া গিয়ে স্ক্যাম সেন্টারে ১৭ দিন বন্দী শফিকুল চাকরির আশায় কম্বোডিয়া গিয়ে স্ক্যাম সেন্টারে ১৭ দিন বন্দী শফিকুল গাজীপুরে কাভার্ডভ্যান ও সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২ গাজীপুরে কাভার্ডভ্যান ও সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২ যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার শর্তাবলী নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার শর্তাবলী নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি ফল আনারকলির চাষ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি ফল আনারকলির চাষ বিআরটিএ কর্মকর্তা মাসুদ আলমের বদলি, ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্য ফের আলোচনায় বিআরটিএ কর্মকর্তা মাসুদ আলমের বদলি, ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্য ফের আলোচনায় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড়: উত্তরণের উপায় কী? ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড়: উত্তরণের উপায় কী? গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে লংমার্চে নাহিদের আল্টিমেটাম গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে লংমার্চে নাহিদের আল্টিমেটাম জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে সরকার, অভিযোগ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে সরকার, অভিযোগ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের
সব খবর

সোমবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে পাসের হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রেকর্ড করেছে। এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে, যা গত বছরের তুলনায় আরও কম। একই দিনে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলও প্রকাশ করা হয়।

এবারের ফলাফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। অর্থাৎ, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ১৯ হাজার। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে শীর্ষে থাকলেও, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড পাসের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে থাকার প্রবণতা দেখা গেছে। ছাত্রীদের পাসের হার প্রায় ৬৮ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় ৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৫৮ হাজারের বেশি ছাত্রী এবং প্রায় ৪৭ হাজারের বেশি ছাত্র রয়েছে।

গত ২১ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই এসএসসি পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০ জন। অর্থাৎ, ৫ লাখ ৪ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি, যা মোট পরীক্ষার্থীর এক-তৃতীয়াংশের বেশি। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমে যাওয়ায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। এছাড়া, শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে; এবার ৫৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, যা গত বছর ছিল ৪৮টি। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া এবং কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে একজনও পাস না করার ঘটনা বিদ্যালয়ভিত্তিক শিখন মান ও প্রস্তুতির ঘাটতির প্রশ্ন সামনে এনেছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা সার্বিক পাসের হার কমার অন্যতম প্রধান কারণ। কুমিল্লা ছাড়া আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেই ইংরেজিতে পাসের হার ৮০ শতাংশের নিচে। ময়মনসিংহ বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার প্রায় ৬৭ শতাংশ এবং গণিতে প্রায় ৭০ শতাংশ। সিলেট বোর্ডেও ইংরেজিতে পাসের হার প্রায় ৬৯ শতাংশ এবং গণিতে প্রায় ৭৬ শতাংশ। এমনকি পাসের হারে শীর্ষে থাকা ঢাকা বোর্ডেও ইংরেজির ফল আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে; এবার ঢাকা বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৭৮ শতাংশের কিছু বেশি, যা গত বছর ছিল প্রায় ৮৮ শতাংশ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ইংরেজি ও গণিতে খারাপ করার কারণেই মূলত পাসের হার কমেছে, কারণ দুটি বিষয়ই বাধ্যতামূলক হওয়ায় এসব বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার প্রভাব সরাসরি সার্বিক ফলাফলে পড়েছে।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও বড় ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়েছে। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাসের হার সবচেয়ে কম, যেখানে ছাত্রদের মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের মধ্যে প্রায় ৫৪ শতাংশ পাস করেছে। এর বিপরীতে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের পাসের হার ৭৭ শতাংশের বেশি এবং ছাত্রীদের প্রায় ৮৪ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফলও মানবিকের তুলনায় ভালো। মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ বিভাগের তুলনামূলক কম পাসের হার সার্বিক ফলাফলেও বড় প্রভাব ফেলেছে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রশ্নের ধরন, পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের পদ্ধতিও পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলে। প্রায় ১০ বছর বিদ্যালয়ে পড়ার পর ৫ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হতে না পারা এবং ইংরেজি-গণিতে বড় দুর্বলতা বিদ্যালয়ে শিখন মান, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি নতুন করে পর্যালোচনা করা দরকার বলে মনে করেন তারা।

এসএসসির পাসের হারে গত দুই দশকে বড় ওঠানামা হয়েছে। ২০০৭ সালে পাসের হার ছিল প্রায় ৫৭ শতাংশ, যা পরের বছর প্রায় ৭১ শতাংশে উন্নীত হয়। এরপর দু-এক বছর বাদে দীর্ঘ সময় পাসের হার ৮০ শতাংশের ওপরে বা কাছাকাছি ছিল; কোনো কোনো বছর তা ৯০ শতাংশও ছাড়িয়েছে। গত বছর থেকে সেই প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা যায়। ২০২৫ সালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এবার তা আরও কমে ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে নেমেছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বনিম্ন। দীর্ঘ সময় উচ্চ পাসের হার থাকার পর টানা দুই বছর ফল কমার এই প্রবণতা মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং বিদ্যালয় পর্যায়ের শিখনঘাটতি—সব কটিরই নতুন করে পর্যালোচনা দরকার বলে মনে করেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।

তবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবারের ফলাফলকে খারাপ বলতে রাজি নন। গতকাল ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, এবারের ফল সুন্দর হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়া যায় না।’ একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র নির্মোহভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে যে শিক্ষার্থী যেভাবে পড়াশোনা করেছে, নির্মোহভাবে সেভাবেই মূল্যায়ন হয়েছে।

গত তিন যুগে এসএসসির ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯০ সালে এসএসসিতে পাসের হার ছিল প্রায় ৩২ শতাংশ। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) পদ্ধতি চালুর সময় থেকে পরীক্ষার ফলাফলে আবার বড় পরিবর্তন আসে। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত পাসের হার ৬১ থেকে ৭৩ শতাংশের মধ্যে ছিল। পরে প্রশ্নব্যবস্থায় পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ২০০৭ সাল পর্যন্ত আবার পাসের হার তুলনামূলকভাবে কমে আসে। ২০০৮ সাল থেকে আবার পাসের হার বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে মাধ্যমিকে চালু হয় সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি, যা এখনো বহাল আছে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, ফলাফল বিশ্লেষণ করে শুধু কতজন পাস করেছে বা কতজন অকৃতকার্য হয়েছে, সেসবে আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না। পুরো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েই গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি এশিয়া কাপ হকিতে চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করলো বাংলাদেশ এশিয়া কাপ হকিতে চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করলো বাংলাদেশ চাকরির আশায় কম্বোডিয়া গিয়ে স্ক্যাম সেন্টারে ১৭ দিন বন্দী শফিকুল চাকরির আশায় কম্বোডিয়া গিয়ে স্ক্যাম সেন্টারে ১৭ দিন বন্দী শফিকুল গাজীপুরে কাভার্ডভ্যান ও সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২ গাজীপুরে কাভার্ডভ্যান ও সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২ যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার শর্তাবলী নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার শর্তাবলী নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি ফল আনারকলির চাষ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি ফল আনারকলির চাষ বিআরটিএ কর্মকর্তা মাসুদ আলমের বদলি, ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্য ফের আলোচনায় বিআরটিএ কর্মকর্তা মাসুদ আলমের বদলি, ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্য ফের আলোচনায় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড়: উত্তরণের উপায় কী? ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড়: উত্তরণের উপায় কী? গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে লংমার্চে নাহিদের আল্টিমেটাম গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে লংমার্চে নাহিদের আল্টিমেটাম জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে সরকার, অভিযোগ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে সরকার, অভিযোগ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের
সব খবর