রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু। আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, এই মামলায় জামিন পাওয়ার পর তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা অবশিষ্ট নেই।
এর আগে গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে একে একে মোট আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২৩ মে সাতটি পৃথক মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাকে যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত ১৬ মে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিলের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দিয়েছিলেন।
গত ৩০ জুন খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হককে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট, তবে রাষ্ট্রপক্ষ সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরবর্তীকালে ২ জুলাই চেম্বার আদালত খোয়াইব হত্যা মামলায় তার জামিন বহাল রাখেন। এরপর বনানী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী পদচারী-সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া খোয়াইবকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বেলা ১১টার দিকে মিছিলটি যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে যাওয়ার সময় শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের মদদে পুলিশ, র্যাব এবং আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের অস্ত্রধারীরা গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

















