রাজনীতি

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা: ১৯৯১ সালের উত্তাপ কি ফিরছে?

প্রতিবেদক
তরমুজ চাষে সফল দিনাজপুরের মাদ্রাসা ছাত্র মিনহাজ তরমুজ চাষে সফল দিনাজপুরের মাদ্রাসা ছাত্র মিনহাজ দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমল, ভরিতে সাশ্রয় ১ হাজার ১০৮ টাকা দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমল, ভরিতে সাশ্রয় ১ হাজার ১০৮ টাকা মাধ্যমিক শিক্ষকদের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ শেষ করতে নির্দেশ মাউশির মাধ্যমিক শিক্ষকদের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ শেষ করতে নির্দেশ মাউশির ইতালিতে হেনস্তার শিকার বাঁধন, মামলা না করে ফিরছেন না দেশে ইতালিতে হেনস্তার শিকার বাঁধন, মামলা না করে ফিরছেন না দেশে হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো তথ্য নেই: রণধীর জয়সোয়াল তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো তথ্য নেই: রণধীর জয়সোয়াল আপিল বিভাগে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু আপিল বিভাগে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু মাও সে-তুংয়ের চীন: যে বিপ্লব বদলে দিয়েছিল এক বিশাল রাষ্ট্রকে মাও সে-তুংয়ের চীন: যে বিপ্লব বদলে দিয়েছিল এক বিশাল রাষ্ট্রকে পাবনার রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সার্ভার রুম ও সরঞ্জাম পাবনার রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সার্ভার রুম ও সরঞ্জাম ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
সব খবর

বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে চলেছে। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপির প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও, বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট প্রার্থী দেওয়ায় এই নির্বাচন কেবল ভোটের লড়াই নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশলের এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করছে। এই প্রেক্ষাপটে ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে যে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছিল, তা আবার সামনে আসছে।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালে। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী, যাকে প্রার্থী করেছিল আওয়ামী লীগ। আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন। সেই নির্বাচন রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা, দলীয় আনুগত্য, নিরপেক্ষতা এবং সরকার-বিরোধী দলের সম্পর্ক নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি করেছিল, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে আছে। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়নি; প্রতিবারই একক প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন, ফলে সংসদকক্ষে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন পড়েনি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্বাচন কমিশন গেজেটের মাধ্যমে একক প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। এবারের পরিস্থিতি তাই ১৯৯১ সালের পর সংসদে ভোটের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন পদ্ধতিতে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে সংসদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদে প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি চালু করা হয়। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালে দুবার সাধারণ ভোটারের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটে ভোটার শুধু সংসদ সদস্যরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্তার দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংসদকক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুসারে, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে, এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ আগস্ট মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপরও একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে ২০ আগস্ট।

বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। অন্যদিকে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং তার পক্ষে মনোনয়নপত্রও তোলা হয়েছে।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে ১৪০টি পেয়েছিল, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৫১ আসনের চেয়ে ১১টি কম ছিল। আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি এবং জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসন। এককভাবে সরকার গঠন করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপির না থাকায় দলটি জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে সরকার গঠন করে এবং খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই এরশাদবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, কিন্তু নির্বাচনের পর তারা আবার সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকায় চলে যায় এবং তাদের সম্পর্ক একপর্যায়ে তিক্ত হয়ে ওঠে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সংসদীয় ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনে এবং রাষ্ট্রপতিকে সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত করার বিধানও ফিরে আসে। ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদকক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আয়োজন করা হয়। বিএনপি প্রার্থী করে দলটির তৎকালীন স্পিকার আবদুর রহমান বিশ্বাসকে। তিনি ছিলেন দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বিএনপি নেতা। বিএনপি যখন আবদুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আওয়ামী লীগসহ কিছু বিরোধী দলের আপত্তি ছিল দুটি বিষয়ে: তারা তার মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার বিষয়টি সামনে আনে এবং রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় রাজনীতিকের বদলে একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার দাবি জানায়।

বিএনপি আবদুর রহমান বিশ্বাসের ব্যাপারে অনড় থাকায় আওয়ামী লীগ সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করে। আওয়ামী লীগ জানত, সংসদে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বেশি হওয়ায় শুধু ভোটের অঙ্কে জয় পাওয়া কঠিন। কিন্তু বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করে আওয়ামী লীগ দুটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে পেরেছিল। প্রথমত, তারা রাষ্ট্রপতি পদে একজন দলীয় রাজনীতিকের পরিবর্তে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে চেয়েছিল। দ্বিতীয়ত, বিএনপির ভেতরে মুক্তিযুদ্ধপন্থী বা আবদুর রহমান বিশ্বাসকে প্রার্থী করার কারণে যেসব সংসদ সদস্যের আপত্তি থাকতে পারে, তাদের ভোট টানার একটি সুযোগ তৈরি করেছিল।

১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদকক্ষে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি পদে ভোটে বিএনপির আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১৬৬ ভোটের চেয়ে মাত্র ছয় ভোট বেশি ছিল। ওই সংসদে সংরক্ষিত আসনসহ বিএনপির মোট আসন ছিল ১৬৮টি। বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর পক্ষে ভোট পড়ে ৯২টি। সংরক্ষিত নারীসহ সংসদে মোট ৩৩০ সদস্যের ভোটের ব্যবস্থা থাকলেও, সব মিলিয়ে ভোট পড়ে ২৬৪টি, অর্থাৎ ৬৬ জন ভোট দেননি। আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু বিপুল রাজনৈতিক ঐকমত্য নিয়ে নয়।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার কারণে আবদুর রহমান বিশ্বাসের বিরোধিতা করলেও আওয়ামী লীগ জামায়াতের ভোট পেতে তৎপর ছিল। এমনকি আওয়ামী লীগের প্রার্থী জামায়াতের তৎকালীন আমির গোলাম আযমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভোট চেয়েছিলেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও হয়। আবদুর রহমান বিশ্বাসও গোলাম আযমের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক সংবাদ ৮ অক্টোবর ‘নিন্দনীয়’ শিরোনামে একটি বিশেষ লেখা প্রথম পাতায় ছেপেছিল। অন্যদিকে, জামায়াত সরকার গঠনে বিএনপিকে সহায়তা করলেও রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াতের সবাই আবদুর রহমান বিশ্বাসকে ভোট দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে, কারণ জামায়াতের সব ভোট পেলে আবদুর রহমান বিশ্বাস আরও বেশি ভোট পেতে পারতেন। আলোচনা আছে, ওই নির্বাচনে জামায়াত, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোটের অনেক সংসদ সদস্য ভোট দেননি। মজার বিষয় হলো, ওই সংসদে দুজন স্বতন্ত্র সদস্য ছিলেন—বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তারা দুজনই বিএনপির রাষ্ট্রপতিকে ভোট দিয়েছিলেন।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সংসদ স্থায়ী ছিল মাত্র ১১ দিন। ওই বছর জুনে অনুষ্ঠিত পরের নির্বাচনে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। রাষ্ট্রপতি পদে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে প্রার্থী করা হয় এবং বিরোধী দল কাউকে প্রার্থী করেনি। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে, সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ওই সংসদে বিরোধী দলের সর্বাধিক সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও বিএনপি প্রার্থী দিতে পারত, কিন্তু সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা প্রার্থী দেয়নি। এরপর প্রতিবারই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিরোধীরা অংশ নেয়নি।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে, যিনি আট মাস দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু বিএনপির সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে বিএনপি। ২০০৬ সালে রাজনৈতিক সংকটের সময় তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বও নিজে নিয়েছিলেন। একপর্যায়ে ‘এক-এগারোর’ সরকার দায়িত্ব নেয়।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে জিল্লুর রহমানকে। তিনি ২০১৩ সালে মারা গেলে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত এবং পরে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. আবদুল হামিদ। নিজের প্রথম মেয়াদ শেষ করার পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। এরপর ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল তিনি স্বাভাবিক অবসরে যান। রাষ্ট্রপতি পদে এক ব্যক্তি দুইবারের বেশি থাকতে পারেন না। আবদুল হামিদই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সর্বাধিক সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি। এরপর ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হন মো. সাহাবুদ্দিন, যিনি গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে মোট তিনবার সরাসরি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। প্রথমবার ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেল এম এ জি ওসমানী আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের সমর্থন নিয়ে প্রায় ২২ শতাংশ ভোট পান। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ৬৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। আওয়ামী লীগের হয়ে ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২৬ শতাংশ ভোট পান। বিচারপতি সাত্তারকে সরিয়ে এইচ এম এরশাদ সামরিক শাসক হিসেবে আবির্ভূত হন এবং ১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেন, যেখানে এরশাদ ৮৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ উল্লাহ (হাফেজ্জী হুজুর), যিনি ৬ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পান।

প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিরা নির্বাহী ক্ষমতাসহ সব ধরনের ক্ষমতা ভোগ করতেন। কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতির পদ হয়ে যায় অনেকটা আলংকারিক। যদিও সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে। সংবিধান অনুসারে, জাতীয় সংসদের ঘোষিত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করেন রাষ্ট্রপতি, কিন্তু একবার প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ হয়ে গেলে রাষ্ট্রপতিকে তার পরামর্শ নিয়ে চলতে হয়। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রধান এবং সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়কও তিনি। রাষ্ট্রপতি দণ্ডিত ব্যক্তির দণ্ডাদেশ স্থগিত, হ্রাস বা দণ্ডিতকে ক্ষমা করতে পারেন। প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি, যেখানে সরকারি নীতির রূপরেখা তুলে ধরা হয়। সংসদে পাস হওয়া প্রতিটি বিল আইনে পরিণত হয় রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রদানের পর। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ কার্যভার গ্রহণের সময় থেকে পাঁচ বছর, তবে মেয়াদ শেষ হলেও তার পরবর্তী রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।

সংবিধান অনুযায়ী, ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন। তবে তার মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে দুজন সংসদ সদস্যকে থাকতে হবে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা নেই—এমন কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। সংসদের অধিবেশনকক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তার সামনে নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম ও নিজের স্বাক্ষর দিয়ে তা জমা দেবেন সংসদ সদস্যরা। প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি মাত্র ভোট থাকবে। সংসদকক্ষে প্রার্থী, ভোটার ও ভোট গ্রহণে সহায়তাকারী কর্মকর্তা ছাড়া অন্যদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করবেন নির্বাচনী কর্মকর্তা। স্পিকারও এই নির্বাচনে একজন ভোটার। নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করবেন এবং সর্বাধিক সংখ্যক ভোটপ্রাপ্তকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর সমান ভোট পেলে প্রার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে।

তিনি ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় সদস্য ছিলেন।

১৯৭৯ সালে সংসদ সদস্য হয়ে জিয়াউর রহমানের সরকারের মন্ত্রিসভায় পাটমন্ত্রী এবং পরে বিচারপতি আবদুস সাত্তার সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন।

তরমুজ চাষে সফল দিনাজপুরের মাদ্রাসা ছাত্র মিনহাজ তরমুজ চাষে সফল দিনাজপুরের মাদ্রাসা ছাত্র মিনহাজ দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমল, ভরিতে সাশ্রয় ১ হাজার ১০৮ টাকা দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমল, ভরিতে সাশ্রয় ১ হাজার ১০৮ টাকা মাধ্যমিক শিক্ষকদের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ শেষ করতে নির্দেশ মাউশির মাধ্যমিক শিক্ষকদের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ শেষ করতে নির্দেশ মাউশির ইতালিতে হেনস্তার শিকার বাঁধন, মামলা না করে ফিরছেন না দেশে ইতালিতে হেনস্তার শিকার বাঁধন, মামলা না করে ফিরছেন না দেশে হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো তথ্য নেই: রণধীর জয়সোয়াল তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো তথ্য নেই: রণধীর জয়সোয়াল আপিল বিভাগে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু আপিল বিভাগে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু মাও সে-তুংয়ের চীন: যে বিপ্লব বদলে দিয়েছিল এক বিশাল রাষ্ট্রকে মাও সে-তুংয়ের চীন: যে বিপ্লব বদলে দিয়েছিল এক বিশাল রাষ্ট্রকে পাবনার রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সার্ভার রুম ও সরঞ্জাম পাবনার রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সার্ভার রুম ও সরঞ্জাম ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
সব খবর