দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। তাই নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, ভোটগ্রহণের স্থান ও সময় নির্ধারণ, অধিবেশন পরিচালনা এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর সংবিধান অনুযায়ী ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন স্পিকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত রোববার (৯ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ক্ষমতাসীন বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে এবং সোমবার তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে।

















