তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ইন্টারনেটের ক্ষতিকর আসক্তি থেকে রক্ষা করতে সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন মঙ্গলবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানান। বাংলাদেশ অ্যান্টি ড্রাগ ফেডারেশন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে ‘মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি, ক্যারিয়ার নির্বাচনে বিভ্রান্তি: সমাধান যে পথে’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে।
অধ্যাপক মামুন বলেন, তরুণদের আসক্তি থেকে মুক্ত রাখতে কেবল সচেতনতা যথেষ্ট নয়, বরং তাদের জন্য একটি আনন্দময় ও ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে শিক্ষাক্রমে ‘এডুকেশন উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া শিশুদের মেধা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি এবং প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপের মতো ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ ধারার কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা সম্পর্কে তিনি বলেন, মাদকসেবীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত এবং মাদকের গডফাদারদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কঠোর অবস্থান নিতে হবে এবং সরকারকে এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তরুণদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে অধ্যাপক মামুন জানান, যুবসমাজের বেকারত্ব দূর করতে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে তরুণদের ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ এবং আত্মকর্মসংস্থানের সহায়তা বৃদ্ধির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও তরুণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

















