ঢাকার সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় তিন তলা একটি বাড়ি ঘিরে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তাদের পাশাপাশি সাভার মডেল থানার পুলিশ সদস্যরাও অভিযানে অংশ নিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, বাড়িটি থেকে বোমা ও বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানটি পরিচালিত হচ্ছে হেমায়েতপুরের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় অবস্থিত আবদুল জলিলের বাড়িতে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম সাংবাদিকদের জানান, ডিএমপির সিটিটিসির একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, জেএমবির সদস্যরা ওই বাড়িতে অবস্থান করছে এবং তাদের কাছে বিস্ফোরক দ্রব্য রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়। আটকের সময় ওই ব্যক্তির কাছ থেকে বোমা ও বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
ওসি সাইফুল আলম আরও জানান, আটক ওই ব্যক্তি গত ১ আগস্ট বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। বর্তমানে বাড়িটি থানা-পুলিশ ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘিরে রেখেছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। আটক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, আটকের সময় ওই ব্যক্তির কাছে থাকা ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি শক্তিশালী পাঁচটি পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যে ভিত্তিতে বাসার নিচ তলার কক্ষ থেকে একই জাতীয় আরও বেশকিছু বোমা ও বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বাড়ির মালিক আবদুল জলিলের মেয়ে ইলমা জানান, গত ২ আগস্ট আব্বাস আলীসহ আরও একজন বাসাটি ভাড়া নিতে আসেন। তাঁরা নিজেদের ড্রাইভার পরিচয় দিয়েছিলেন এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকার কথা বলেছিলেন। পাশাপাশি পাশের একটি স্কুলে শিশুদের পড়ানোর কথা বলে তাঁরা ফ্যামিলি হিসেবে বাসাটি ভাড়া নেন। ৩ আগস্ট রাত থেকে তাঁরা সেখানে থাকা শুরু করেন। ভাড়াটিয়াদের এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বাড়ির মালিক বা তাঁর পরিবার কিছুই জানতেন না বলে জানিয়েছেন ইলমা।

















