জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না’—এমন বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য আলোচিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য হয়েছে। সেই কথোপকথনের ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে ইকবাল হোসাইনকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার।
বরখাস্ত হওয়া অন্য পাঁচ কর্মকর্তা হলেন—ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপকমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানী এবং কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অনুপস্থিতির দিন থেকেই তাঁদের চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে। কাজী আশরাফুল আজীম ২০২৪ সালের ৪ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ছিলেন। কাজী আশরাফুল আজীম ও রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।
তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সামনে গুলি নিয়ে করা মন্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। ভিডিওতে ইকবাল হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না।’ তবে প্রজ্ঞাপনে এই বক্তব্যের চেয়ে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাকেই বরখাস্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইকবাল হোসাইন ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন এবং কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়ায় রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তাঁকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়। এর আগে গত বছরের ২৩ জুলাই তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
অন্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ আনা হয়েছে। বিপ্লব কুমার সরকার ৬ আগস্ট থেকে এবং সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ২২ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। কাজী আশরাফুল আজীম ১৪ আগস্ট দায়িত্ব ছাড়ার পর আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। তিনি ২০২৪ সালের ২৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়েছিলেন। একইভাবে, মো. গোলাম রুহানী ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব হিসেবে প্রেষণে যোগদানের উদ্দেশ্যে ডিএমপির দায়িত্বভার ছেড়ে দেন এবং রাজন কুমার দাস ৩১ ডিসেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

















