তীব্র দাবদাহ এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে সুনামগঞ্জের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, দিনে ও রাতে মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে গ্রাম এলাকার বাসিন্দাদের। বিদ্যুতের এই চরম ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছাতকের জাউয়া বাজার এলাকায় এলাকাবাসী বিদ্যুতের দাবিতে মিছিলও করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকলেও মাস শেষে তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে পুরো বিল, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ভুতুড়ে বিল আসারও অভিযোগ রয়েছে। তাহিরপুরের বাসিন্দা মশিউর রহমান জানান, রাত ১২টার পর বিদ্যুৎ এলেও তা ৩টার দিকে চলে যায়। দিনের বেলায় বিশেষ করে সকালে বিদ্যুৎ থাকে না এবং দুপুরে আধা ঘণ্টা পরপর আসা-যাওয়া করে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, যার ফলে রাতে প্রচণ্ড গরমে শিশুরা ঘুমাতে পারে না।
বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে। সদর উপজেলার বানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল হক জানান, সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাক্ষেত্রে এর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সংকটে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা। লাল মিয়া নামের এক চালক জানান, রাতে রিকশায় চার্জ দিতে না পারায় দিনের বেলা গাড়ি চালাতে পারছেন না, ফলে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে পরিবার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমেদ জানান, জেলায় প্রতিদিন ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র সাড়ে ৮ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশেরও কম হওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এদিকে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) তাপস কুমার পাইন জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে সৃষ্ট এই লোডশেডিং একটি জাতীয় সমস্যা এবং এটি দ্রুত সমাধানের আশা করছেন তারা।

















