মেঘনা-আড়িয়াল খাঁ বেষ্টিত মুলাদী-মীরগঞ্জ রুটে সন্ধ্যা নামলেই চরম দুর্ভোগ নেমে আসে। সন্ধ্যা ৮টার পর ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বরিশাল, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতকারী হিজলা ও মুলাদী উপজেলা এবং কাজিরহাট থানার লক্ষাধিক মানুষকে নদী পারাপারে চরম অনিশ্চয়তায় পড়তে হচ্ছে। নদী পারাপারের কোনো বিকল্প না থাকায় সাধারণ যাত্রী, পরীক্ষার্থী ও মুমূর্ষু রোগীরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন এবং নিঃস্ব হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ের পর ঘাটে সাধারণ ফেরি ও ট্রলার বন্ধ হলেও পর্দার আড়ালে শুরু হয় ‘রিজার্ভ পারাপারের’ নামে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। নদী পার হওয়ার আর কোনো উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে মোটা অঙ্কের টাকা গুনে ট্রলারে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। সবচেয়ে করুণ অবস্থায় পড়েন বরিশাল নগরীতে চিকিৎসা নিতে আসা অসুস্থ রোগী ও তাদের স্বজনেরা। ডাক্তার দেখানো বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে রাত ৯টার দিকে মীরগঞ্জ ঘাটে পৌঁছালে পারাপারের কোনো ব্যবস্থা থাকে না। জরুরি চিকিৎসার জন্য আসা অ্যাম্বুলেন্স, বৃদ্ধ ও মালামাল বহনকারী যাত্রীরা ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
ভুক্তভোগী বাসিন্দা রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সন্ধ্যা ৮টা বাজার পরপরই ঘাটে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ট্রলারে যাতায়াত করতে হয়, যা সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধরনের আঘাত হানে। অপর বাসিন্দা রহমান বলেন, জরুরি প্রয়োজনে বা কোনো রোগী নিয়ে রাতে ঘাটে এলে এক করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়। রিজার্ভের নামে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায় করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই।
এদিকে, মীরগঞ্জ প্রান্তের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা। তিনি বলেন, ঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানির কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ, বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম জানান, রাতের ট্রিপ বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও লোকবলের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রাত ১০টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি যাত্রী হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, রাত ১০টা পর্যন্ত নিয়মিত ফেরির ট্রিপ চালু করার পাশাপাশি অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

















