ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে তিনি এই পোস্টটি করেন, যেখানে তিনি নতুন জীবন শুরুর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়ে যখন নেতাকর্মীদের মাঝে নানা আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়েই তার এমন মন্তব্য সামনে এলো।
পোস্টের শুরুতেই স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাকিব বলেন, অত্যন্ত সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেওয়ায় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ শীর্ষ নেতাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের প্রতিও তিনি ধন্যবাদ জানান।
রাকিব তার পোস্টে ঢাকা, জগন্নাথ, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, শেরেবাংলা কৃষি ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাদের সহযোগিতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে ঢাকার পাঁচ কলেজ ও চার মহানগরের নেতাদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের শ্রম ও ঘামেই রাজপথের কর্মসূচিগুলো সফল হয়েছে। নিজের নেতৃত্বাধীন নেতাকর্মীদের সততা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে তিনি দাবি করেন, চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেও তারা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে জড়াননি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রাকিব বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন ও রাজপথে কার্যকর ভূমিকা পালন ছিল রাকিব-নাসির কমিটির অন্যতম সাফল্য। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরবর্তী বাস্তবতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মব মোকাবিলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুলিং উপেক্ষা করেও তাদের নেতৃত্ব দিতে হয়েছে। নিজের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নন, তাই দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা যেন ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়। পরিশেষে, ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

















