চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র এবং ২৫ নম্বর রামপুরা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সবুর লিটন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও বিলাসবহুল আয়োজনের মধ্য দিয়ে চতুর্থবারের মতো বিয়ে করেছেন। হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে পরিচিত এই নেতা বর্তমানে দেশ থেকে পলাতক রয়েছেন। তার বিয়ের একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, যেখানে দেশের সাধারণ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা আত্মগোপনে থেকে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন, সেখানে আব্দুস সবুর লিটন দুবাইয়ে আয়েশী জীবনযাপন করছেন। তার এই কর্মকাণ্ড দলের কর্মীদের আবেগের প্রতি চরম অবমাননা বলে মনে করছেন অনেকে। এর আগেও তিনি নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সমালোচিত হয়েছেন। ২০০৪ সালে তিনি একই মায়ের গর্ভজাত দুই বোন বেবি আক্তার ও সুমি আক্তারকে একসঙ্গে বিয়ে করে ব্যাপক তোপের মুখে পড়েছিলেন। ইসলামী শরিয়াহর বিধান লঙ্ঘন করে করা সেই বিয়ে নিয়ে সে সময় এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলেও তিনি তা আমলে নেননি। পরবর্তীতে এক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে সম্পর্কচ্ছেদ করেন তিনি। এছাড়াও অবৈধ সিগারেট ব্যবসা ও নকল বিদেশি সিগারেট তৈরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, আব্দুস সবুর লিটন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরপরই ভারত হয়ে দুবাইয়ে পাড়ি জমান। বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে দুবাইয়ের একটি হোটেলে তিনি চতুর্থ বিয়েটি সম্পন্ন করেন। এর আগে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে তিনি নগরের উত্তর কাট্টলীর স্থায়ী বাসিন্দা এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন, যিনি চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। ওই তরুণী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী ছিলেন এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনে আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী এস এম আল মামুনের হয়ে গণসংযোগ করেছিলেন। তবে ৫ আগস্টের পর ওই তরুণীর সঙ্গে লিটনের আর কোনো যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।
ভাইরাল হওয়া বিয়ের ছবিগুলোতে দেখা যায়, শেরোয়ানি পরিহিত আব্দুস সবুর লিটন নতুন বধূর সঙ্গে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তুলছেন এবং কেক কাটছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ১৭ বছরের লুটপাটের টাকা ও ইয়াবা ব্যবসার আয়ে তিনি বিদেশে এমন বিলাসিতা করছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আব্দুস সবুর লিটনের নেতৃত্বে থাকা বিশাল কিশোর গ্যাং ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

















