সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে একটি হাই-প্রোফাইল প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে ফেডারেশন। এই ম্যাচটির জন্য প্রায় ৫০ থেকে ৭০ কোটি রুপি ব্যয় করা হচ্ছে, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের কিংবদন্তি ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া।
ভুটিয়া মনে করেন, দেশের ক্লাব ফুটবল যখন চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেই সময় এই পরিমাণ অর্থ একটি প্রীতি ম্যাচের জন্য ব্যয় করা পুরোপুরি অযৌক্তিক। তিনি বলেন, ব্রাজিল যদি ভারতে এসে বিনামূল্যে প্রীতি ম্যাচ খেলত, তবে তাতে কোনো আপত্তি ছিল না। ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবের নেতৃত্বের সমালোচনা করে ভুটিয়া অভিযোগ করেন যে, ফেডারেশনের বর্তমান নেতৃত্ব সরকার ও ফুটবল সংশ্লিষ্ট সকলকে ভুল পথে চালিত করছে। তার মতে, যেখানে আইএসএল ও আই লিগের ক্লাবগুলো আর্থিক টানাপোড়েনে ধুঁকছে এবং অনেক ক্লাব বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, সেখানে এমন সিদ্ধান্ত অনুচিত।
এই প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের ফলে ভারতের ফিফা-স্বীকৃত প্রথম আসিয়ান কাপে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। টুর্নামেন্টের সূচির সঙ্গে এই প্রীতি ম্যাচের সংঘাত তৈরি হওয়ায় এআইএফএফ আসিয়ান কাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ভুটিয়ার মতে, থাইল্যান্ড বা ভিয়েতনামের মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলোর বিপক্ষে আসিয়ান কাপে খেললে ভারতীয় ফুটবল দলের জন্য তা বড় ধরনের প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা হতো।
দেশের ফুটবলের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি জামশেদপুর এফসি থেকে টাটা স্টিলের সরে যাওয়া এবং চার্চিল ব্রাদার্সের মালিকানা হস্তান্তরের মতো ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করেন। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ পর্বে যোগ্যতা অর্জনকারী ইস্টবেঙ্গলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্পনসর জটিলতায় ভুগতে থাকা এই ক্লাবটিকে যদি রাজ্য সরকার বা স্থানীয় পর্যায় থেকে ১০-২০ কোটি রুপি সহায়তা করা যেত, তবে তারা আরও শক্তিশালী দল নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নিতে পারত। ভুটিয়া বর্তমানে দেশে স্থায়ী ফুটবল পরিকাঠামো গঠনের ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

















