ডারউইন টেস্টে এখনো এক দিন বাকি থাকলেও বাংলাদেশ দল ম্যাচটি জিতে নিয়েছে এক দিন হাতে রেখেই। প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দল এই চার দিনের ম্যাচে কোনো সেশনেই সেভাবে দাপট দেখাতে পারেনি, যা অনেকটা তাদের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মতোই। ম্যাচ শেষের পর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বাকি থাকা এই এক দিনে দল কী করবে। জবাবে নাজমুল বলেন, এ ধরনের জয় জীবনে খুব কম আসে, তাই তারা পুরো দিনটি খুব ভালোভাবে উদ্যাপন করার চেষ্টা করবেন।
নাজমুলের মতে, এই জয়টি কেবল নির্দিষ্ট কোনো ক্রিকেটারের নয়, বরং পুরো বাংলাদেশ দলের। ম্যাচসেরা হিসেবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাউকেই আলাদা করতে চাননি, বরং পুরো দলকেই ম্যাচসেরা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, দলের প্রতিটি সদস্যই কোনো না কোনোভাবে এই জয়ে অবদান রেখেছেন। তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, নিজের ৮৪ রান, মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রান ও ৫ উইকেট কিংবা হাসান মাহমুদের ৯ উইকেট শিকার—সব মিলিয়েই এই অসাধারণ সাফল্য এসেছে।
অধিনায়ক বিশেষভাবে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে হাসান মাহমুদের ১৭০ বলে ৪৬ রানের জুটি এবং তাসকিনের সঙ্গে মিরাজের ৯৬ বলে ৪৬ রানের জুটি দলকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছিল। এর পাশাপাশি মুমিনুলের ৪৯ রান, তাসকিন ও ইবাদতের দুটি করে উইকেট এবং লিটন দাসের কিপিং নৈপুণ্যসহ ছোট ছোট অবদানগুলোই জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে। নাজমুল মনে করেন, তামিম ইকবালের প্রথম সেঞ্চুরি এবং সাদমানের প্রথম ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ ২০ রানও দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হয়ে থাকবে।

















