কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আধুনিক প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব ও অপব্যবহার রোধে কার্যকর নীতি নির্ধারণ এবং জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নরওয়ে সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) যৌথভাবে ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ : পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এই আশীর্বাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে জনকল্যাণমুখী করতে না পারলে তা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানবের মতো মানবসভ্যতার জন্যই মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তিনি আরও বলেন, তথ্যের সততা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখার বিষয়টি এখন কেবল সফটওয়্যার প্রকৌশলী বা টেক জায়ান্টদের একার বিষয় নয়, এটি আমাদের সম্পূর্ণ একটি নতুন ইকোসিস্টেমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাঠামোগত জটিলতা প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফেসবুকসহ প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদম মূলত ব্যবসার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়, জনকল্যাণের জন্য নয়। সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় থাকা ইন্টারনেট এবং এই ব্যবসায়িক স্বার্থ একত্রে এক জটিল বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। তিনি আইটি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাণ্ডজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নীতি নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, অনেক পেশাজীবী বা তরুণ নিজস্ব উদ্ভাবনী ক্ষমতার চেয়ে এআই প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, যা কাজের মৌলিকত্ব ও সততাকে ব্যাহত করছে। প্রযুক্তি আমাদের দক্ষতা বাড়াবে ঠিকই, তবে তা যেন চোরাবালির দিকে নিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। সংবাদপত্রের রূপান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রচলিত গণমাধ্যমগুলো এখন ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে ভালো আয় করছে। এই যুগে গণমাধ্যম, রাষ্ট্র এবং অরাজনৈতিক অংশীদারদের একযোগে সঠিক তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে অপতথ্য প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে গণমুখী করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ফোরাম ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তথ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়ায় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। সেমিনারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতিসংঘের প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

















