প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। এই সময়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার পর সরকারপ্রধান এখন মন্ত্রিসভায় রদবদল এবং নতুন মুখ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। সরকার ও বিএনপি দলীয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আলোচনায় রয়েছে, বান্দরবানের সংসদ-সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনলেও বুধবার বিকাল পর্যন্ত সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দু-একদিন পরই মন্ত্রিসভার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
গত ১ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। যদিও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বর্তমানে ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের সম্ভাবনা থাকায় তার মন্ত্রণালয়েও পূর্ণ মন্ত্রী নেই। গুঞ্জন রয়েছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি পেতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে এ্যানি এই খবরের সত্যতা নাকচ করে জানিয়েছেন, তাকে নিয়ে ছড়ানো এসব তথ্যে তিনি বিব্রত।
সূত্র আরও জানিয়েছে, আগামী ২২ আগস্টের মধ্যে এই রদবদল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি টেকনোক্রেট কোটায় নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী, সংসদ-সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ড. আসাদুজ্জামান রিপন। পাশাপাশি সংসদের হুইপদের মধ্য থেকেও কাউকে মন্ত্রী করা হতে পারে। এছাড়া দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা হিসেবে পরিচিত শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম ৬ মাস অতিক্রম করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এখন মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ১ জুন তিনি পদত্যাগ করেন।

















