নতুন রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পড়াবেন তা নিয়ে সৃষ্ট আইনি জটিলতার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় তাদের সুনির্দিষ্ট মতামত জানিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রণালয় জানায় যে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকারই নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন। এতে কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই বলে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এমতাবস্থায় সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে স্পিকারের যাবতীয় দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন। ফলে স্পিকারের দায়িত্বের অংশ হিসেবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করানোর দায়িত্বটিও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ওপরই বর্তায়।
উল্লেখ্য যে, গত ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে।
এদিকে, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের এই আয়োজনটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এরপর সাতবারই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত মনে করা হলেও বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ ভোটের মাঠ ছাড়েননি। আজ ভোট গণনা শেষে সংসদ কক্ষেই ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা এবং পরবর্তীতে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করবেন।

















