প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবারও সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে, যা তৎকালীন সংসদের ভেতরে বেশ বিতর্ক ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছিল। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসে এবং ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে অবস্থান নেয়।
১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তৎকালীন সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট ৩৩০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৬৪ জন ভোট প্রদান করেন এবং ৬৬ জন ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট।
নির্বাচনের জন্য জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষকেই ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। দুপুর ২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলে সংসদ সদস্যদের জন্য অধিবেশন কক্ষের ভেতরেই বুথ স্থাপন করা হয়। তবে ভোট শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই আওয়ামী লীগের মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম ও সাজেদা চৌধুরীসহ কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রকাশ্য ভোটের বিরোধিতা করে হট্টগোল শুরু করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রকাশ্য ভোটের কারণে গোপনীয়তা রক্ষা হচ্ছে না এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। এই প্রতিবাদের মুখে তারা ‘শেইম, শেইম’ বলে স্লোগান দেন।
নির্বাচন শেষে আবদুর রহমান বিশ্বাসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও ওই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় আর ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। তবে দীর্ঘ বিরতির পর এবার আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

















