রাজধানীর বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামের কারণে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা, যার ফলে প্রতিদিনের বাজার খরচে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। গরুর মাংসের কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় ঠেকেছে। ডিমের বাজার পরিস্থিতিও অস্বস্তিকর; সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে ডিমের দাম আরও বেশি, যা ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। মুরগি বিক্রেতা আনিস আহমেদ জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি, আগের চড়া দামেই পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং ইলিশ মাছের দাম ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ক্ষেত্রে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা ও ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ক্ষেত্রে প্রায় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
রায়ের বাজারের ক্রেতা আবু দাউদ বলেন, বাজারের এমন পরিস্থিতিতে মাছ কেনা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ২৫০ টাকার নিচে কোনো মাছই পাওয়া যাচ্ছে না। মাছ বিক্রেতা কফিল উদ্দিনের মতে, বাজারে মাছের দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই, বরং দামের অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। ক্ষুব্ধ ক্রেতারা জানান, মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আয় না বাড়ায় সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে যে টাকায় এক সপ্তাহের বাজার করা সম্ভব ছিল, এখন তা কয়েক দিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
ক্রেতারা জানান, বাজারে এসে এখন মাছ, মুরগি আর ডিম কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। একটার দাম একটু কম, তো আরেকটার দাম বেড়ে যাচ্ছে। ২০০ টাকার মধ্যে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না, ব্রয়লার মুরগির দামও অনেক বেশি। ডিমের দামও বেড়ে গেছে। আমাদের আয় তো সেভাবে বাড়েনি, কিন্তু বাজার খরচ প্রতিদিনই বাড়ছে। আগে যে টাকায় এক সপ্তাহের বাজার করা যেত, এখন সেই টাকা কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে যাবে।

















