নেপালের সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে উজানের অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত একটি সম্ভাব্য কারণ হলেও, এখন পর্যন্ত পাওয়া রেকর্ডে তেমন কোনো তথ্যের প্রমাণ মেলেনি। তবে হিমবাহ হ্রদে অতিরিক্ত পানি জমে চাপ বেড়ে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ গলে যাওয়ার বিষয়টি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া পাহাড়ি নদীতে নির্মিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ যদি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করা হয়, তবে পানির চাপে তা ভেঙে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কাদা ও বড় পাথরসহ পানির প্রবাহের ধ্বংসক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়। নেপালে এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৯ জনে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশেও কি এ ধরনের কোনো আশঙ্কা বা ঝুঁকি রয়েছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঝুঁকিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটানোর মতো শক্তি জমা হয়ে আছে। যদি বড় কোনো ভূমিকম্প হয়, তবে কাপ্তাই লেক এবং কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ রয়েছে। বাঁধের কোনো দুর্বল জায়গা ভূমিকম্পের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিপুল পরিমাণ পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসতে পারে, যা কাপ্তাই শহরসহ আশপাশের এলাকার জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বর্ষাকালে লেকে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
১৯৬২ সালে কাপ্তাই বাঁধ চালু হওয়ার পর থেকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বাঁধটি অনেক পুরোনো হওয়ায় এর কাঠামোগত সক্ষমতা, ফাটল বা দুর্বলতা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। বৈজ্ঞানিকভাবে বাঁধের কাঠামোর শক্তি, পানির চাপ এবং বাঁধ সেই চাপ কতটা নিতে পারছে—এসব বিষয় নিয়মিত পরিমাপ করা প্রয়োজন। নেপালের সঙ্গে ভৌগোলিক পরিস্থিতি এক না হলেও, পাহাড়ি এলাকায় পানি জমে থাকা, বাঁধের নিরাপত্তা এবং ভূমিকম্পের মতো ঝুঁকির বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত।

















