একজন শিল্পীর জন্য তার কর্মস্থল কেবল কাজের জায়গা নয়, বরং সেটি স্মৃতির ভান্ডার ও ভালোবাসার ঠিকানা হয়ে ওঠে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এফডিসির আলো-ছায়ায় জীবনের অসংখ্য বছর কাটিয়েছেন কিংবদন্তি চিত্রনায়িকা রোজিনা। তবে সেই প্রিয় জায়গাটিকেই এখন নিজের শেষ বিদায়ের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। রোববার রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পী সমিতির নির্বাচন, চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি ও নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলার সময় এমন আক্ষেপের কথা জানান এই বরেণ্য অভিনেত্রী।
রোজিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মৃত্যুর পর তার মরদেহ যেন কোনোভাবেই এফডিসি প্রাঙ্গণে না নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান এফডিসিতে তিনি আর আগের মতো শিল্পীদের প্রতি সম্মান, মূল্যবোধ কিংবা শ্রদ্ধাবোধ খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের হারের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং অনেক আগে থেকেই তিনি তার পরিবারের সদস্যদের এই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। তার মতে, যে জায়গাটি একসময় শিল্পীদের আপন ঠিকানা ছিল, সেখানে এখন আর সেই আন্তরিকতা অবশিষ্ট নেই।
এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রোজিনা বলেন, ভোটগ্রহণ থেকে ফলাফল ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়াতেই তিনি নানা ধরনের অসংগতি প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এফডিসি এখন আর আগের মতো নেই। কথা বলার সময় তিনি প্রয়াত নায়করাজ রাজ্জাকের কথা স্মরণ করেন এবং জানান, রাজ্জাক সাহেবও জীবদ্দশায় অভিমান করে একই ধরনের ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছিলেন। সেই স্মৃতি যেন রোজিনার কষ্টকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে এফডিসির সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার কথা বলেননি তিনি। সরকারি অনুষ্ঠান বা পেশাগত প্রয়োজনে সেখানে যাওয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই অভিনেত্রী। কিন্তু নিছক ভালোবাসার টান থেকে তিনি আর সেখানে পা রাখতে চান না। রোজিনার এই বক্তব্য কেবল একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে একজন প্রবীণ শিল্পীর নীরব আর্তনাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যে শিল্পী একসময় এফডিসিকে নিজের স্বপ্নের ঠিকানা বানিয়েছিলেন, আজ শেষ বিদায়ের পথ থেকেও সেই ঠিকানাকে সরিয়ে দিতে চাইছেন তিনি—এই বিষয়টি এখন চলচ্চিত্রপাড়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

















