রাজবাড়ী শহরের বড় বাজারের কাদেরিয়া সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ প্রতিষ্ঠানের নারী উদ্যোক্তা ও তার কর্মীদের মারধর এবং শ্লীলতাহানির ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে পুলিশের একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে রাজবাড়ী কাপড় বাজার সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি সাইফুজ্জামান ফারুকী। তার সঙ্গে সদস্য হিসেবে ছিলেন ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শাকিলা সুলতানা এবং রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক। এ সময় রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ, রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলামসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা, বাজার ব্যবসায়ী পরিষদ এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি সাইফুজ্জামান ফারুকী জানান, নারী উদ্যোক্তাকে লাঞ্ছিত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তিনি বলেন, ‘আজ তদন্ত সম্পন্ন করলাম। আগামী বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান, রাজবাড়ী সদর থানার বিনোদপুর বড় বাজারের কাদেরিয়া সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় জাকিয়া সুলতানার ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামের প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী কর্মচারীর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২৯ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বড় বাজারের সামনের রাস্তায় জাকিয়া সুলতানা ও তার কর্মীরা প্রতিবাদী মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ওসি আরও বলেন, ‘হামলায় জাকিয়া সুলতানা ও তার কর্মীদের এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করা হয় এবং শ্লীলতাহানি ঘটানো হয়।’
এই ঘটনায় জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। পরে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজবাড়ী সদর থানায় মামলাটি রুজু করা হয়। মামলার ঘটনায় রাজবাড়ী পৌরসভার ধূঞ্চি ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জমজম খানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল সিয়াম খান (১৯), ধুঞ্চি ২৮ কলোনি এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. রুবেল হোসেন (১৯) এবং পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধূঞ্চি গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে মো. হেলাল উদ্দিনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

















