ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে কমিয়ে দিয়েছে আদানি পাওয়ার। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) একটি জনসংযোগ সংস্থার মাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভারতের রেলপথে যানজট এবং কয়লা পরিবহনের রেকের ওপর বিধিনিষেধের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এই প্রভাব পড়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়ে এটিই আদানি পাওয়ারের প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দৈনিক প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা কেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম। আদানি পাওয়ারের দাবি, সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বা সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতেই দিনের কম চাহিদার সময়ে সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ভারতের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত বেশ কয়েকটি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার মজুত কমে যাওয়ায় পুরো অঞ্চলজুড়ে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারতীয় রেলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা হচ্ছে যাতে কয়লা সরবরাহের স্বাভাবিক গতি দ্রুত ফিরিয়ে আনা যায়।
গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত। বিপিডিবি’র সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত পুরো বিদ্যুৎই বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। আদানি পাওয়ারের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, কয়লা সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।

















