কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের আলোচিত শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান (৪৮) ও সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলমের (৩৭) বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছে। বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং আদালতের নির্দেশনায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
২০১৬ সালের ২০শে মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরবর্তীতে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত পর্যায়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিলেও সেখানে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৬ই এপ্রিল পিবিআই তিন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য—সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহীন আলমের ডিএনএ প্রোফাইল ক্রসম্যাচ করার জন্য আদালতের অনুমতি নেয়। তবে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পিবিআই ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়ে জুন মাসে আদালতে আবেদন জানায়। আদালতের নির্দেশে এনসিবি-ঢাকাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। বাংলাদেশের জমা দেয়া নথিপত্র ও তথ্য পর্যালোচনার পর ইন্টারপোল অভিযুক্ত ওই দুই সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে রেড নোটিশ জারি করে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের আলোচিত শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকা সন্দেহে সাবেক ২ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল।
২০১৬ সালের ৪ঠা এপ্রিল ও ১২ই জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পাওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।

















