গত ২৪শে আগস্ট জারি করা নতুন আমদানি নীতিমালায় পুরাতন বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই নীতিমালার ফলে এখন থেকে কেবল নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ থাকছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশের বিকাশমান বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, নতুন এই নীতিমালা দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশের মতে, বর্তমানে দেশের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার গুটি কয়েক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে যারা মূলত চীন থেকে গাড়ি আমদানি করে। নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাজারটি নির্দিষ্ট কিছু সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমদানিকারকরা বলছেন, চীন থেকে আসা গাড়ির যন্ত্রাংশ সহজলভ্য নয় এবং মেরামতের ক্ষেত্রেও স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতার অভাব রয়েছে। বিপরীতে, জাপান থেকে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানির সুযোগ থাকলে কম খরচে উন্নত মানের গাড়ি পাওয়া যেত এবং রক্ষণাবেক্ষণও সহজ হতো।
বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স এসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ ডন এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি দেশের প্রায় দেড় হাজার আমদানিকারককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি জানান, নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম যেখানে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা হতে পারে, সেখানে পুরাতন গাড়ি আমদানির সুযোগ থাকলে ক্রেতারা অর্ধেক দামে তা কেনার সুযোগ পেতেন। এতে বাজারে গাড়ির চাহিদা ও বিক্রি উভয়ই বৃদ্ধি পেত। তিনি সরকারের কাছে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
বারবিডার বর্তমান সভাপতি আব্দুল হকও একই সুর মিলিয়ে বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে পুরাতন বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে এবং ডব্লিউটিও-এর এ বিষয়ে কোনো বাধা নেই। তিনি পরামর্শ দেন যে, সরকার চাইলে ব্যাটারির আয়ুষ্কাল বা মান নিয়ে শর্ত আরোপ করতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে উন্মুক্ত রাখা উচিত। বারভিডা নেতারা ইতিমধ্যেই বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে বৈদ্যুতিক বাস-ট্রাক আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট অব্যাহতির মতো নানা সুবিধা দিয়েছিল। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট বক্তৃতায় পরিবেশদূষণ রোধে এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তবে নতুন আমদানি নীতিমালার মাধ্যমে পুরাতন গাড়ি নিষিদ্ধ করায় ব্যবসায়ীরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বারভিডা জানিয়েছে, নীতিমালা জারির আগেই কিছু রিকন্ডিশন বৈদ্যুতিক গাড়ি জাহাজীকরণ করা হয়েছিল, যা খালাসের সুযোগ থাকলেও ভবিষ্যতে আর নতুন করে আমদানির কোনো পথ খোলা রইল না।
আমদানিকারক সূত্র জানায়, প্রায় ৫০ বছর ধরে যেসব গাড়ি ব্যবসায়ী জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গাড়ি এনে বাংলাদেশের পরিবহন ও যানবাহন খাতকে সমৃদ্ধ করেছেন, দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন এবং দেশের আধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে তৈরি করেছেন, সেই পুরোনো উদ্যোক্তারাই নতুন নীতিমালার কারণে অনিশ্চয়
উল্লেখ্য গত ২৪শে আগস্ট জারি করা আমদানি নীতিমালায় যানবাহন আমদানির ক্ষেত্রে বলা হয়, ৫ বছরের অধিক পুরাতন গাড়ি, মোটরকার, প্যাসেঞ্জার কার ও ট্রাক আমদানি করা যাইবে তবে পুরাতন বা ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি করা যাইবে না। বারবিড়া সূত্র জানায়, সরকারি এই নীতিমালা জারির আগে কিছু রিকন্ডিশন বৈদ্যুতিক গাড়ি জাহাজীকরণ হয়েছিল। এগুলো

















