দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ জোরদার করতে বিজিএমইএ ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট নেতারা। শনিবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনা সভায়’ এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত হয়।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও নাগরিকদের বার্ধক্যের আর্থিক ও সামাজিক নিশ্চয়তা দিতে সরকার এই পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই কাঠামো তৈরি করবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানান, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা এই স্কিমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে নিয়মিত পেনশন সুবিধা পাবেন। এছাড়া গ্রাহকের অকাল মৃত্যুতে তার মনোনীত ব্যক্তি জমাকৃত অর্থ ও মুনাফা পাওয়ার অধিকারী হবেন এবং আর্থিক সংকটকালে চাঁদা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে এই কার্যক্রম শক্তিশালী করতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শ্রম আইন ২০২৬-এর সংশোধনী অনুযায়ী, ১০০ জনের বেশি শ্রমিক কর্মরত এমন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের এই স্কিমের আওতায় আনা বাধ্যতামূলক, তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত হিসাব খোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, পোশাক খাতের সব শ্রমিককে দ্রুত পেনশনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি শ্রমিকদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে প্রথম দুই বছরের জন্য সরকারি প্রণোদনা এবং পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব রাখেন। বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এটিকে সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করলেও ৫০ লাখ শ্রমিককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেন। সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম জানান, শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় সম্ভাব্য মুনাফার হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বিজিএমইএ শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার মালিক, কর্মকর্তা ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, দেশের বৃহত্তম রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের এই ব্যবস্থার আওতায় আনা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।

















