বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। শুক্রবার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট প্রোডাক্ট অ্যান্ড রুলস’ বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মাসুদ খান বলেন, কোম্পানিগুলোকে প্রথমে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বাজারে আসার জন্য উৎসাহিত করা হবে। তবে তারা সাড়া না দিলে জনস্বার্থে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ কমিশনের হাতে রয়েছে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়েকটি বড় ও ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আসেন। তবে না এলে সেটার অস্ত্রও আমাদের হাতে আছে।’ আইন অনুযায়ী ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি-পিআইসি’র সংজ্ঞা নির্ধারণ করে বড় কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানিগুলো করপোরেট ইমেজ পায় এবং বাজারমূল্য নির্ধারিত হয়, যা তাদের একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সুবিধা দেয়। এছাড়া পারিবারিক ব্যবসার উত্তরাধিকার বিরোধ এড়াতেও তালিকাভুক্তি একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে তিনি মত দেন।
বড় কোম্পানিকে বাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তি ও হাইব্রিড পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মাসুদ খান বলেন, প্রচলিত আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘এক্সটেন্ডেড অডিট’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে আর্থিক বিবরণীর পাশাপাশি কোম্পানির জমি, যন্ত্রপাতি ও মজুতপণ্যের তথ্যের বাস্তবতা যাচাই করা হবে। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) যাচাই-প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।
বাজারের স্থায়িত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজার মূলত সাধারণ বিনিয়োগকারী-নির্ভর। বাজারকে টেকসই করতে পেনশন ফান্ড ও বীমা কোম্পানিসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ শেয়ারবাজার ও করপোরেট বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হবে। এছাড়া ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক সূচক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমএসসিআই বাংলাদেশের বাজার নিয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে নিয়মিত পর্যালোচনা ও করপোরেট ইভেন্ট বাস্তবায়ন শুরু হবে। ডিএসই-এর ক্ষমতায়ন, আধুনিক তদারকি ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সার্ভেইলেন্স এবং বন্ড বাজার উন্নয়নেও বিএসইসি কাজ করছে বলে তিনি জানান।

















