প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ২৮। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) বহুল প্রতীক্ষিত কমোডিটি মার্কেট চালুর জট অবশেষে কাটতে শুরু করেছে। গত জুন মাসে খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ চার কমিশনার পদত্যাগ করার পর বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে করপোরেট ব্যক্তিত্ব মাসুদ খানকে নিয়োগ দেয় বিএনপি সরকার। গত ৩১ ডিসেম্বর ডিএ-এর পর থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্ব ও সিএসইর সমন্বিত উদ্যোগে চলতি মাসেই ব্রোকারেজ হাউসগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। বিএসইসি ২০২৪ সালের মার্চে সিএসইকে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর লাইসেন্স দেয়। এই মার্কেটে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে হেজার ক্যাটাগরি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, রিফাইনারি ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া ব্রোকারেজ হাউস থেকেই মার্কেট মেকারদের লাইসেন্স প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কমোডিটি মার্কেট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার জানিয়েছেন, কমোডিটি মার্কেট চালুর জন্য তাদের প্রস্তুতি প্রায় শতভাগ সম্পন্ন। তিনি জানান, বিএসইসির কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যেই এটি চালু করা সম্ভব হবে। বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, লংকাবাংলা, বি-রিচ, সোহেল সিকিউরিটিজ, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ, রয়্যাল ক্যাপিটাল, ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ ও এনএলআই সিকিউরিটিজসহ মোট সাতটি প্রতিষ্ঠান ব্রোকার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চলতি মাসেই ৭ থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হবে।
বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কমোডিটি মার্কেট চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্রোকার নিবন্ধন ও পণ্য অনুমোদনের বাধাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিস্টেম চালু হবে। প্রথম পর্যায়ে স্বর্ণ, রুপা ও তামার মতো ধাতব পণ্য নিয়ে যাত্রা শুরু হবে এবং পরবর্তী ধাপে তুলা, পাম অয়েল ও ক্রুড অয়েল যুক্ত করা হবে। এক্ষেত্রে রেফারেন্স ভ্যালু হিসেবে লন্ডন বুলিয়ান, শিকাগো কিংবা দুবাই মার্কেটের যেকোনো একটিকে অনুসরণ করা হবে।
বর্তমানে বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবিজি লিমিটেডের মালিকানাধীন স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটি লিংকওয়ের শেয়ার ধারণ নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে। ২০২২ ও ২৫ সালের এনবিআরের নিষেধাজ্ঞার কারণে শেয়ার হস্তান্তরে বাধা থাকায়, স্বার্থের সংঘাত এড়াতে আপাতত ওই শেয়ার ‘ব্লক’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে প্রতিষ্ঠানটিকে শেয়ার ছাড়তে হবে। এছাড়া সিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী এবিজি লিমিটেডের অতিরিক্ত শেয়ারও ব্লক রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

















