কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সর্বশেষ মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া নিম্নগামী অর্থনৈতিক সূচকের বোঝা। বর্তমানে জ্বালানি পণ্যের বাড়তি দাম, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং দেশি-বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপের কারণে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক দায় তৈরি হয়েছে। জাহিদ হোসেন, যিনি বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, মনে করেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের শ্লথগতির কারণে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যয় খাতগুলো পর্যালোচনা করে খরচের অগ্রাধিকার ঠিক করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর কারণে বাড়তি ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, যা আগামী দুই বছরের মধ্যে সংস্থান করতে হবে। জাহিদ হোসেনের মতে, সরকারের সক্ষমতা বিবেচনা না করেই এই বাড়তি ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গত অর্থবছরের আদায় করা মোট শুল্ক-করের প্রায় ২৫ শতাংশের সমান। বর্তমানে এনবিআরের পক্ষে ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন, ফলে এই বিশাল অর্থের জোগান কীভাবে আসবে তা নিয়ে সরকার ভুল পথে হাঁটছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এলএনজি আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়া অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। ইরান যুদ্ধের আগে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ৬০-৭০ ডলার থাকলেও বর্তমানে তা ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। একইভাবে এলএনজির দামও দ্বিগুণ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেবল টাকা ছাপিয়ে বা ধারদেনা করে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় মেটানো সঠিক সমাধান নয়। এটি কোনো এককালীন সমস্যা নয় বরং প্রতিবছরই বেতন-ভাতার জন্য বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে যা চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়বে। তাই সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব প্রশাসনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সরকারি খরচের খাতগুলো পুনর্বিবেচনা করা এখন সময়ের দাবি।

















