প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৫৪
একসময় বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত হলেও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলের ফল আনারকলি, যা প্যাশন ফ্রুট বা ট্যাং ফল নামেও পরিচিত। উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের নবগঙ্গা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ মোল্লার ছেলে কৃষক মশিউর রহমান মিলন পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা পাওয়ার পর এবার দুই বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এর আবাদ করেছেন। তার বাগানে লতানো গাছের সবুজ পাতার মাঝে ঝুলছে আকর্ষণীয় সবুজ রঙের এই ফল।
মশিউর রহমান মিলন জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত এবং এটিই তার পরিবারের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম। গত বছর ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরে স্টালিনের বাগানে প্রথম এই ফল চাষ দেখে তিনি চারা সংগ্রহ করেন। চারা রোপণের পর লাউ গাছের মতো দ্রুত বাড়তে থাকা গাছগুলোর জন্য তিনি মাচা তৈরি করে দেন। রোপণের মাত্র আট মাস পর থেকেই গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে এই আট মাস বয়সী গাছেই ফল পাকতে শুরু করেছে।
চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে মিলন জানান, চারা লাগানোর পর থেকে গাছটি সারা বছর ফল দিয়ে থাকে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এতে কোনো রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না; শুধুমাত্র জৈব সার ব্যবহার করেই ফল উৎপাদন করা সম্ভব। রোগবালাই কম হওয়ায় এবং কম খরচে লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় অনেক কৃষক এখন তার বাগান দেখতে আসছেন এবং এই ফল চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
দুই বিঘা জমিতে বাগান করতে এ পর্যন্ত তার প্রায় এক লাখ আশি হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান ফলন ও বাজারদর ঠিক থাকলে মৌসুম শেষে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ফল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তিনি। কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে তার। ভেড়ামারা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সদরুল ইসলাম জানান, ভেড়ামারায় আনারকলি বা প্যাশন ফ্রুট চাষ নতুন হলেও চলতি মৌসুমে উপজেলার অনেক জমিতেই বাণিজ্যিকভাবে এর চাষাবাদ হচ্ছে।
মশিউর রহমান মিলন বলেন, চারা লাগানোর ৮ মাস পর থেকে ফল আসা শুরু করলেও এটি সারা বছর ফল দিতে থাকে। কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এই ফল চাষ করা যায়।
সেখান থেকেই আমি চারা সংগ্রহ করে আমি আমার ২বিঘা জমিতে রোপণ করি। কিছু দিনের মধ্যেই এসব ডালে নতুন পাতা গজায় এবং তরতর করে গাছগুলো লাউ গাছের মতো বড় হতে থাকে। পরে মাচাং তৈরি করে দেই। মাচাংয়ে বড় হতে হতে মাত্র ৮ মাসের মধ্যে সুন্দর ফুল ও পরে ফল হতে থাকে। আট মাস আগে লাগানো এসব গাছে এখন ফল পাকতে শুরু করেছে।

















