বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতারা মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে গত ১৮ মাসে সংগঠিত অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি ও বিধিবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগ তোলেন। সিনিয়র সাংবাদিক মামুনুর রশীদ নোমানীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া, রাজিব তালুকদার, সজীব তালুকদার, মো. নাসির উদ্দিন, নীলিমা, ইকবাল হোসেন সরদার ও আজিজুল ইসলাম যুবরাজসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ফারুক ওয়াসিফ বিধিবহির্ভূতভাবে প্রশাসন পরিচালক, উপপরিচালক, সিনিয়র রিসার্চ অফিসার ও সিনিয়র প্রশিক্ষকসহ বিভিন্ন পদে অস্থায়ী নিয়োগ দিয়েছেন। এসব নিয়োগে আর্থিক লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এছাড়া পিআইবির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হয়রানি ও চাপের মুখে রাখার অভিযোগও ওঠে। এর মধ্যে গবেষণা কর্মকর্তা কামরুন নাহারকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা, প্রশিক্ষক মোহাম্মদ শাহ আলমকে শোকজ ও এমএলএসএস মো. মাহবুব আলমকে বরখাস্তের ঘটনা উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত কামরুন নাহার, নিজাম উদ্দিন, মিজানুর রহমান সরকার, আবদুল্লাহ আল মামুন, মাহবুবুল আলম, আবদুল জব্বার, ইসলাম সিকদার, শাহ মো. গোলাম রহমান মজনু, মো. সোহেল, তাজুল ইসলাম, মাহফুজ ইসলাম ও আমিরুল ইসলামের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ করেন বক্তারা। অবসরপ্রাপ্ত এ কে এম ফরিদ উদ্দিন পাওনা চাইতে গেলে তাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টিও সামনে আনা হয়।
আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে বক্তারা অভিযোগ করেন, ‘তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা’ এবং ‘গণআন্দোলনের দিশা ও দর্শন’ কর্মসূচির নামে একই দিনে একাধিক কর্মশালা দেখিয়ে ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকার বিল-ভাউচার করা হয়েছে। সরকারি অডিটেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের কর্মকাণ্ডে ১৭টি অডিট আপত্তি উঠেছে, যার মধ্যে এই উৎসবের নগদে বিল পরিশোধের বিষয়টিও রয়েছে। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত হিসাব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীকে উচ্চ বেতনে অস্থায়ী উপপরিচালক ও আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও আইনবহির্ভূত বলে দাবি করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে ফারুক ওয়াসিফকে অপসারণ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও আর্থিক সুবিধা দিয়ে একটি ভীতিকর কর্মপরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

















